প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মানুষকে উন্নত সেবা দিতে গণপূর্তে ই-ফাইলিং শুরু

সুজিৎ নন্দী : [২] দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সেবা সহজীকরণ, সরকারি জমি অবৈধ দখল মুক্তকরণ, অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণে ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ, বস্তিবাসী ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প গ্রহণসহ উন্নয়ন মূলক ব্যাপক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গত এক বছরে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হওয়া সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজউক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের চেহারা বর্তমানে পাল্টে গেছে।

[৩] এ বিষয়ে গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের জানান, এই ২১ শতকে আমরা আইসিটির অগ্রযাত্রা থেকে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে পারিনা, কারণ আইসিটি হলো আধুনিক ব্যবস্থা যাতে ই-গভর্নেন্সের ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। তাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের আইসিটি উন্নয়ন আমার কর্ম তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

[৪] প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, কিছু ডাটাবেজ সফটওয়্যার উন্নয়নের সূচনা হতে যাচ্ছে। আমি আমার সহকর্মীদের অনুরোধ করছি তারা যেন কম্পিউটারে বিশেষ করে ডাটাবেজ সফটওয়্যার ব্যবহারে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সংস্থাগুলো তাদের আইসিটি সেবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের কাছে পৌছে দিচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ২০০২ সাল থেকে তার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে।

[৫] আশরাফুল আলম জানান, এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা এই অধিদপ্তর সম্পর্কে জানতে পারবে। এজন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টার ওয়েবসাইটে রাখা আছে এবং আমি আশা করি এটি স্টেকহোল্ডারদের উন্নততর সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে।

[৬] উন্নত সেবা নিতে কোনও ব্যক্তি তার কাজের বিষয়ে আবেদনের অবস্থান, অগ্রগতি সম্পর্কে অনলাইনে জানতে পারবেন। ফলে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানের অংশ হিসেবে ই-ফাইলিং বেশ সাফল্য কুড়িয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। ই-ফাইলিং কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসে যে কোনো সেবা নিতে পারছে। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগ কমছে অন্য দিকে অনিয়ম কমে আসছে শতভাগ।

[৭] সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তর তার দেশব্যাপী অফিস কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ক্ষেত্রে সকল উঠতি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম। এর সুযোগ্য, প্রশিক্ষিত এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী দেশের একাধিক জটিল প্রকল্প সম্পন্ন করে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

[৮] এদিকে, কারোনা প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থাানে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় পূর্ত কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করেছে গণপূর্তের প্রকৌশলীরা। এছাড়া নতুন করে জরুরিভিত্তিতে যেসব কাজের নির্দেশনা আসছে তাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য দেশজুড়ে গণপূর্তের প্রকৌশলীরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায় থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

[৯] সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে আশকোনার হজ ক্যাম্প কোয়ারেন্টিনের উপযোগী করা, ১৮টি হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণ, ৪৭টি হাসপাতালে সাড়ে ৯শ’ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণ, ৮টি হাসপাতালে ৮৫০ শয্যার কোয়ারেন্টিন সেন্টার স্থাাপন, ১১টি হাসপাতালে ৩৫০ শয্যার করোনা ইউনিট স্থাাপন, আইইডিসিআরের নতুন ১০ তলা ভবনের নিচতলায় স্যাম্পল কালেকশন কক্ষ ও ক্যান্টিন এবং ডিউটি ডাক্তারদের থাকার জন্য আবাসনের ব্যবস্থাা, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তিনটি কক্ষকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ২৯ শয্যার আইসিইউ নির্মাণ এবং করোনা রোগীদের ব্যবহার সামগ্রী পোড়ানোর জন্য ইনসিনারেটর নির্মাণ, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ১৮০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ শয্যার আইসিইউ নির্মাণ করা হয়েছে।

[১০] গণপূর্তের প্রকৌশলীরা জানান, কেভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণ, আইসোলেশন ইউনিট, কোয়ারেন্টিন সেন্টার, করোনা ইউনিট স্থাাপন ছাড়াও এসব স্থাাপনাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজটিও নিয়মিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা মেডিকেলসহ ১৮টি হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত