প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সুন্দরবনের কেওড়া ফলের নানাগুন

গোলাম মোস্তফা: [২] সুন্দরবনের কেওড়া ফল উপকুলীয় মানুষের একটি প্রিয় খাবার যা স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারী। বর্তমান চলছে কেওড়া ফল খাওয়ার ভরা মৌসুম। উপকূল অধিবাসি ছাড়াও সহজলভ্য এ ফলটি যে কোন মানুষের স্বাস্থ্যে ও বেশ কয়েকটি দিক ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম। আর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপিলিনের প্রফেসার ড.শেখ জুলফিকার হোসেনের সুন্দরবনের কেওড়া ফল নিয়ে ইতিমধ্যে তার গবেষনার ফলাফল দেশি বেদেশি বেশ কয়েকটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

[৩] কেওড়াগাছ সুন্দরবনে প্রচুর পরিমানে জন্মে। তাছাড়া উপকুলীয় এলাকায় নতুন সৃষ্ট চরে এই ম্যানগ্রোভ গাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। লবন সহিষনু এ গাছে প্রচুর পরিমানে ফল হয় যা কেওড়া নামে পরিচিত। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকুলীয় জেলা সমুহের লোকজন এই কেওড়া ফলের সাথে ছোট চিংড়ি ও মসুরের ডাল রান্না করে খেয়ে থাকে।কেওড়া ফল হতে আচার ও চাটনী তৈরী করা হয়।

[৪] রমজান মাসে রোজাদারদের মাঝে টকের বেশ চাহিদা থাকায় রমজান মাসে এ ফলের বেশ চাহিদা বা কদর বাড়ে। এ ফল পেটের অসুখের চিকিৎসায় বিশেষত বদহজমে চিকিৎসায় মহৌষদ হিসাবে ব্যবহার হয়। অন্যদিকে সুন্দরবনে উৎপন্ন মধুর সিংহভাগই আসে কেওড়াফুল থেকে। তাই এই গাছটি হয়ে উঠেছে লবনাক্ততায় আকরান্ত কর্দমাক্ত জমির বিশেষ ফসল। কেওড়াগাছ উপকালীয় মাটির ক্ষয়রোধ করে মাটিকে দেয় দৃড়তা ও উর্বরতা।

[৫] খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপিলিনের প্রফেসার ড. শেখ জুলফিকার হোসেনের গবেষনালব্দ প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, কেওড়া ফলে রয়েছে ১২ বাগ শর্করা, ৪ ভাগ অমিষ. ১.৫ ভাগ ফ্যাট, প্রচুর ভিটামিন বিষেষত ভিটামিন সি এবং এর ভেরিভেটিভ সমুহ। কেওড়া ফলে পলিফেনন,ফ্লাভানয়েড,অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যানস্যাচুরেটেড ওমেগা ফ্যাটি এসিড বিশেষ করে লিনোলয়িক এসিডে পরিপূর্ণ। তাই এ ফলটি শরীর ও মনকে সতেজ রাখার জন্য ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী ।

[৬] এ দেশে ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পলিফেনন রয়েেেছ আমলকিতে তারপরের স্থান কেওড়া ফলে। কেওড়া ফলে সমপরিমান আপেল ও কমলা ফলের তুলনায় অনেক বেশি পলিফেনন ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পলিফেনন শরীরের ডায়েবেটিস. ক্যান্সার, আথ্রাইটিস, হৃদরোগ, এলার্জি, চোখের ছানি, বিভিন্ন প্রকার প্রদাহ সহ নানা রোগ সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলটিতে আমলকি, আপেল ও কমলার তুলনায় বেশি পরিমান ফসফরাস,ম্যাগনেশিয়াম ও বেশি পরিমান জিংক রয়েছে।

[৭] এ ফলে রয়েছে ডায়রিয়া ও ডায়েবেটিস প্রতিরোধী ও ব্যাথানাশক গুনাগুন।ফলটি ডায়রিয়া ও আমাশয় ও পেটেরপীড়ার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে কার্যকরীভাবে দমন করতে পারে। কেওড়াফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পালমিটিক এসিড,অ্যাস্করবাইল পালমিটেড ও স্টিয়ারিক এসিড যা তৈরী খাদ্য সংরক্ষনে ব্যাবহার হয়ে থাকে।তাই উপকুলীয় এলাকায় অনাবাদী লবনাক্ত জমিতে ফলটি ব্যাপকভাবে জন্মানোর উদ্যোগ নিলে প্রান্তিক জনগনের বাড়তি আয়ের উৎস হবে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে বলে খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. শেখ জুলফিকার হোসেন মনে করেন। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত