প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিতাসকে আগেই জানানো হয়েছিলো, গাফলতিতে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ

ডেস্ক রিপোর্ট: মুসল্লিরা বলছেন, জানানো সত্ত্বেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মসজিদের নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাস লাইনের লিকেজ মেরামত না করায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এ ভয়াবহ এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২টায় প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, গ্যাসের লাইনের অসংখ্য লিকেজ থেকে বের হওয়া গ্যাসের সঙ্গে এসির গ্যাস মিশে এ বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে একমত।
মুসল্লিরা জানান, মসজিদে নামাজ পড়তে এলেই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির মাধ্যমে একাধিকবার জানানো হয়েছিল তিতাস কর্তৃপক্ষকে। তবে তারা এ বিষয়টি আমলে নেননি। আবার অনেকেই অভিযোগ করেছেন, টাকা না দেওয়ায় পাইপ মেরামত করা হয়নি।

স্থানীয় মুসল্লি আলী আজগর জানান, আমরা শুনেছি, আগেই তিতাসকে এ ব্যাপারে জানিয়েছিল স্থানীয় লোকজন। আমরা যখন নামাজ পড়তে যেতাম, তখনই গ্যাসের গন্ধ নাকে আসত। মসজিদ কমিটিও বিষয়টিও জানে। পরে তিতাস কর্তৃপক্ষ নাকি ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল এ গ্যাসের লিকেজ বন্ধ করতে ও মেরামত করতে। তারপর কি কারণে যেন এটি সংস্কার করা হয়নি।

আমরা এখানে এসে প্রথমেই ধারণা করি, এসিগুলো বিস্ফোরণের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংশ্লিষ্টতা কম। পরে মেঝেতে থাকা পানিতে গ্যাসের বুদবুদ ওঠায় সন্দেহ হয়। এরপর দেখা যায়, মসজিদের নিচ দিয়ে তিতাস গ্যাসের অনেকগুলো লাইন গেছে। লাইনের পাইপগুলোর প্রতিটিতে একাধিক লিকেজ রয়েছে। সেই লিকেজের গ্যাস সব সময় মসজিদে উঠত। নামাজের আগে থেকেই মসজিদ বন্ধ করে এসিগুলো চালু করার ফলে পুরো রুমেই এসির গ্যাস ও লাইনের গ্যাস মিশে যায়। আর গ্যাসের ধর্মই হলো বিস্ফোরণের অবস্থা তৈরি হলে বা কোনো আগুনের সংস্পর্শ পেলে বিস্ফোরিত হয় বা জ্বলে ওঠে। সেই সূত্র মতেই কোনো একটি বিস্ফোরণের কারণে এ বিস্ফোরণ হয়েছে। আমরা ধারণা করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তারা দ্রুত এখানে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, গ্যাসের লাইন থেকেই এ বিস্ফোরণ হয়েছে।

আমরা এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছি। কীভাবে এ লিকেজ বন্ধ করা যায় এবং আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে কাজ করছি। পাশাপাশি বিস্ফোরণের সঙ্গে গ্যাস ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সূত্র রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছি। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাসের পাইপগুলো সারানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।বাংলানিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত