প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আপন ভাইয়ের চেয়েও ঘোড়াকে বেশি ভালোবাসে তারা!

ডেস্ক রিপোর্ট : মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কিমেনিস্তান এবং ঘোড়া! এ দুটি যেন সমার্থক শব্দ। লোকমুখে শোনা যায়, যদি একজন তুর্কমেনকে আপন ভাই ও ঘোড়া দুটোর মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয় তবে সে অবশ্যই ঘোড়াকে বেছে নিবে!

আর তা হবেই বা না কেন? তুর্কেমেন ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানেই তাদের নান্দনিক ঘোড়া। তবে কয়েকশ’ প্রজাতির ঘোড়ার মধ্যে অনন্য হয়ে আছে আখাল-টেকে। স্বর্গীয় ঘোড়া হিসেবে পরিচিত আখাল-টেকে পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন জাতের ঘোড়া।

খ্রীষ্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দে মধ্য এশিয়ার শুষ্ক আবহাওয়ায় উদ্ভব ঘটে এই ঘোড়ার। বিশাল দেহ, দীর্ঘ ঘাড় ও চামড়ার উপর ধাতব প্রলেপ এসব গুণাবলী আখাল-টেকেকে করেছে সুদর্শনীয়। এই ঘোড়ার প্রজাতির গড় আয়ু প্রায় ২০ বছর। ক্ষীপ্র গতির আখাল-টেকে নজর কেড়েছে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, হেরোডোটাস, মার্কা পোলাসহ আরো অনেকের। আখার-টেকের মালিকানার নেশায় পারস্যের সম্রাট সাইরাস রুশ জারের কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন। এই ঘোড়ার লোভে চীনা সম্রাট উঁ আক্রমণ করেছিলেন তুর্কমেনিস্তান।

তবে দুঃখের বিষয়, সোভিয়েত শাসনামলে এই ঘোড়ার কদর কমে যায়। অযত্ন ও অবহেলায় আখার-টেকের সংখ্যা কমতে শুরু করে। রুশদের এই ঘোড়ার কদর বোঝাতে তুর্কমেনরা এক অভিনব প্রতিবাদ করে বসে। ১৯৩৫ সালে তারা আশখাবাদ থেকে মস্কো পর্যন্ত তিন হাজার কি.মি. পাড়ি দিয়েছি আখাল-টেকের পিঠে চড়ে। রুশরা সেদিন মুগ্ধ হয়েছিল আখাল-টেকের দম দেখে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে মস্কোর রাজপথে বিজয় মিছিলে সোভিয়েট মার্শাল জর্জি জুখব এক আখাল-টেকের পিঠে আসীন ছিলেন। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে স্বর্নপদক জিতেছিল এক আখাল-টেকে। বর্তমান পৃথিবীতে এদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তুর্কমেনিস্তান ছাড়াও রাশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় এদের দেখা মেলে। সূত্র : ডেইলি বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত