প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য: আমির খান, শারুখ খান ও সালমান খানের উচিত ভারত ছেড়ে দেয়া

নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য: আমি সিরিয়াসলি বিশ্বাস করি আমির খান, শারুখ খান, সালমান খানের ভারত ছেড়ে অন্য কোনো দেশে থাকা উচিত এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করা উচিত- ‘আমি ভারতকে ঘৃণা করি’। ঠিক যেমন তারেক ফাতা করে থাকেন। গত প্রায় দশ বছর ধরে চাড্ডিচোদরা এদের দেশদ্রোহী পাকপন্থী বলে বেড়াচ্ছে। আগে সালমান খানকে বলতো না। এখন তাকেও বলছে। (সালমানকে আমি ঘৃণা করি অন্য কারণে, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ)। রাজকুমার হিরানী পিকে সিনেমা বানালো। আমির খান তাতে অভিনয় করলেন মাত্র। অথচ পিকের জন্য আমির খান ভিলেন হয়ে গেলেন, কিন্তু হিরানীকে নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করলো না। অথচ সবাই জানে অভিনেতা কেবল অভিনয় করেছেন মাত্র। এমনিতে চাড্ডিরা নিম্নমেধার বিলো অ্যাভারেজ আইকিউ হয়, সেটা সবাই জানে, তারাও স্বীকার করে। কিন্তু তা বলে এতোটাও নয়, যে তারা এটা বুঝবে না সিনেমাটা হিরানী বানিয়েছেন, আমির নন।

শারুখ খান পাকিস্তানের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যবসা করলে সে দেশদ্রোহী। অথচ দেশপ্রেমের জ্বলন্ত আইকন অজিত দোভালের ছেলে পাকি ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যবসা করলে সেটা দেশদ্রোহ নয়। এতো বড় স্বার্থের সংঘাত থাকলে তো যেকোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ‘র’ প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। পাবলিক লাইফে এরকম প্রচুর নজির আছে। শারুখ খানের বাবা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন, অথচ তাকে প্রতিনিয়ত দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হবে, আর যাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিন্দুমাত্র অবদান নেই, তারা হয়ে গেছে দেশপ্রেমের ঠিকাদার।

আমির খান একটা দেশে শুটিং করতে গিয়ে সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে সে হয়ে যায় দেশদ্রোহী, অথচ মোদী শত্রুরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর নাতির বিয়েতে অনাহুত অবস্থায় বিরিয়ানি সাঁটিয়ে আসলে তিনি দেশদ্রোহী নন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এদের কোনো সিনেমা বেরোলেই চাড্ডিরা দলে দলে ট্রেলারে ঞৎধরষবৎ এ গিয়ে আনলাইক করে আসছেন যাতে সেই সিনেমা বক্স অফিসে ফ্লপ করে। ফলে এদের সিনেমা বাজারে দাঁড়াতে পারছে না। সুতরাং ভারতে বর্তমানে সাধারণ মুসলিম কেবল অসুরক্ষিত নয়, সমাজের শীর্ষস্থানে থাকা মুসলিমরাও আর সুরক্ষিত নেই। আমার বক্তব্য হচ্ছে গত দশ বছর ধরেই যখন এরা দেশদ্রোহী বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাহলে বর্তমানে এদের দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হবে কেন? আমির খান, শারুখ খান শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা, রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ তো স্বচ্ছন্দেই করতে পারেন। কারণ তারা তো ঘোষিত দেশদ্রোহী। অতএব, হিন্দু পাকিস্তানে এদের থাকার আমি কোনো যুক্তি দেখি না। এদের এখন দেশপ্রেমী অক্ষয় কুমারের মতো কানাডায় গিয়ে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দেশটা সম্পূর্ণ গাধার পেছনে চলে গেছে। ফেসবুক থেকে

 

সর্বাধিক পঠিত