প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনিস আলমগীর: মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও কান্দাহারের সেই ঘটনা আমাকে একটি অভিজ্ঞতা দিয়েছে

আনিস আলমগীর:  ২০০১ সালে আফগান যুদ্ধকালে তালেবানদের হাতে কান্দাহারের একটি এলাকায় বন্দি হয়েছিলাম। সেই বন্দিত্ব আমাকে বেশি সময় সহ্য করতে হয়নি, তালেবানদের এক কমান্ডার গাড়ি চালিয়ে পাকিস্তান-আফিগানিস্তানের সীমান্ত শহর চামনের এ হোটেলে রেখে গিয়েছিলেন আমাকে, যখন তারা নিশ্চিত হয়েছিলেন আমি সাংবাদিক এবং বাংলাদেশি। বাংলাদেশি মোল্লারা তালেবানদের সমর্থন করে মিছিল করেছে এমন একটি ছবি এক তালেবান যোদ্ধা ওইসময় পাকিস্তানের পত্রিকায় দেখেছে, সেটি তাদের সহানুভূতি লাভে খুব কাজে দিয়েছিল। মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও এই ঘটনা আমাকে একটি অভিজ্ঞতা দিয়েছে—জীবন এবং মৃত্যুর মাঝামাঝি পরিস্থিতিতে একজন মানুষের অনুভূতি কেমন হয় সেটি। আমি অনেককে বলেছি—২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার সাহসটা আমি আসলে সেখান থেকেই পেয়েছি।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান দেখার জন্য ঠিক এক বছর পর আমি যখন আবার কাবুল যাই, সেখানে পড়তে হয় ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে। আগেই আমাকে সতর্ক করেছিল পাকিস্তানি সাংবাদিক বন্ধুরা যখন আমি ইসলামাবাদ থেকে আরিয়ানা নামের ছোট্ট একটি উড়োজাহাজে কাবুল যাচ্ছিলাম। যাওয়ার দ্বিতীয় দিনে কাবুলের কেন্দ্রস্থলে একটি জনবহুল রাস্তায় আমাকে আটক করে কিছু লোক। তারা সবাই তালেবানদের প্রতিপক্ষ—নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের লোক। ক্ষমতা বদলের পর ওরাই তখন কাবুলের পাহারাদার।

তারা বলছে আমি পাকিস্তানি, কাবুলে কেন আসলাম। উর্দুতে কথা বলছিল। আমি কথাবার্তা চালানোর মতো হিন্দি-উর্দু মিশ্রিত একটা খিচুড়ি ভাষা জানি, কিন্তু ভুলেও তা বলছি না তখন। কারণ ইসলামাবাদ থেকে সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে যে সতর্ক করেছে, সেটা তখনও মনে আছে, কাবুলে পাকিস্তানি কাউকে পেলে লাঞ্ছিত করে। উর্দু বলা মানেই পাকিস্তানি সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হওয়া। কেউ কেউ প্রশ্ন করছে—হিন্দি, হিন্দি? মানে আমি ভারতীয় কিনা, ভারতীয় হলে ওরা ছেড়ে দেবে। আমি সঙ্গে থাকা পাসপোর্ট দেখালাম, মূর্খরা তা চিনে না, পড়তেও পারে না। অনেক কষ্টে তাদের রাজি করাতে পারলাম যে নিকটস্থ কোনও পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাও আমাকে। তাই করলো এবং পুলিশ আমার পরিচয় পেয়ে সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দিলো। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত