প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ডিএসসিসির চাকরিচ্যুত ও মেগাপ্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করবে দুদক

সুজিৎ নন্দী : [১] দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঈদুল আজহার পরই তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খুঁজে মাঠে নেমেছে দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দুদকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

[২] সূত্র আরো জানান, দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন-তাকে আইনের মুখোমুখী করা হবে। এরই অংশ হিসেবে ডিএসসিসির ওই দুই কর্মকর্তার সম্পদ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সদ্য শেষ হওয়া প্রকল্পের পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৩] জানা যায়, দুদকের তদন্তে বিশেষ ভাবে ডিএসসিসি আলোচিত ‘চার ইউনিয়ন প্রকল্পে দনিয়া, ডেমরা, সারুলিয়া, ও মাতুয়াইল এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ ও ড্রেন নির্মাণ’ প্রকল্পের উঠে এসেছে। ৯০ ভাগ কাজ করে সংশ্লিষ্ট তৎকালীণ নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী যোগসাজগে পুরো বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেই নির্বাহী প্রকৌশলী এখন নগর ভবনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আর সেই সহকারী প্রকৌশলী এখন নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন।

[৪] এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠুন কুমার শীল বলেন, আমি প্রকল্প পরিচালক ছিলাম না। এখানে অনিয়ম হয়েছে কিনা জানি না। অপর মেগাপ্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানান, আমাদের যে প্রকল্প তা প্রায় শেষ পর্যায়ে।

[৫] ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা জানান, চাকরিকালে ক্ষমতার অপব্যহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদের মালিক হয়েছেন তারা। তাদের বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংকে জমানো টাকাসহ নানা ধরনের সম্পদ রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে।

[৬] নতুন মেয়র দায়িত্ব নিয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশনে’ গিয়ে চাকরিচ্যুত করেছেন শুরুতে তিনজনকে। পরবর্তিতে ধাপে ধাপে প্রায় ২৫জনকে চাকরিচ্যুত করেছেন। অর্ধশত কর্তকর্তার দপ্তর বদল হয়েছে। আরো অর্ধশত কর্মকর্তাকে দপ্তর বদল করা হবে বলে জানা যায়। অনিয়মকারি ও দুর্নীতিবাজ তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ‘মেয়র তাপসের অ্যাকশন’ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী। এ উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। বর্তমানে অঞ্চল-৫ নির্বাহী প্রকৌশলী ছাড়া কোন নির্বাহী প্রকৌশলীদের কোন অভিযোগ নেই।

[৭] একাধিক কর্মকর্তা জানান, দর্শানো, তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক অব্যাহতির মতো বিভিন্ন কালক্ষেপনীয় পদক্ষেপ বলয়ের বাইরে গিয়ে ‘ডিরেক্ট ডিসিশন’ এর এমন ঘটনা ডিএসসিসি তো বটেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জন্যও বেশ বিরল। এরই মধ্যে ভাণ্ডার, প্রকৌশল ও পরিবহন খাতের কয়েকজন কর্মকর্তার বিষয়ে মেয়র তাপস খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

[৮] দীর্ঘদিন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুনীতির সঙ্গে জড়িতদের শীর্ষে আছেন এক ঝাঁক প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য ও কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারি। এদের বিরুদ্ধেও দুদক তদন্ত শুরু করবে।

[৯] এ ব্যাপারে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। আগামী ৫ বছর কোনোরকম কোনো দুর্নীতি, অবহেলা ও গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। এটি শূন্যের কোটায় থাকবে। শূণ্য থেকে বাড়বে না। প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে। সব বিভাগ যখন একাগ্রচিত্রে কাজ শুরু করতে পারবে, তখন ঢাকাবাসীকে আরও বেশি সেবা দিতে পারব।

[১০] ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, কারও কারও বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এটা ঠিক। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় বলা সম্ভব নয়। শুধু এটুকু বলতে পারি, অনিয়ম কিংবা গাফলতি পেলে কেউ ছাড় পাবে না। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত