প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড – ১৯ আটকে দিয়েছে নোয়াখালী-ফেনী জাতীয়মহা সড়ককে চার লাইনের উন্নীত করার কাজের গতি

অহিদ মুকুল নোয়াখালী : [২] নোয়াখালী-ফেনী জাতীয়মহা সড়কের বেগমগঞ্জ সোনাপুর অংশ চার লাইনের উন্নীত করার কাজে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আশাজনক হয় নাই। সঠিক সময় যথা উপযোগী সিদান্ত হীনতাও কোভিড -১৯আটকে দিয়েছে কাজের গতি। বার বার দোকানে দোকানে পরিমাপ কিন্তু এখন ও হয়নি চুড়ান্ত পরিমাপ।

[৩] কাজের এই ধীর গতিতে চলছে বর্ষার সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে । এতে যানবাহনের যাত্রীদের চলাচলে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে সড়কে প্রতি বছর বর্ষা আসার পূর্বে সড়ক বিভাগ ভাঙ্গা ও গর্ত হয়ে যাওয়া রাস্তার সংস্কারকাজ করে এ বছর তেমন কাজ করে নাই।

[৩] সড়ক বিভাগের দাবি ভূমি অধিগ্রহনের জন্য ২০১৮সালে জেলা প্রশাসনকে প্রায় ৭০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের মূল অংশ হিসেবে পরিচিত জেলা শহরের ওপর সড়ক বিভাগ ফোর লেনের সাথে উপযুক্ত ড্রেন,সংযুক্ত করে নাই।রাস্তার উভয় পার্শ্বে সমহারে জায়গানেওয়া উচিত ছিল বলে জানিয়েছেন ভিটি মালিক ও ব্যবসায়ী ফোরাম নেতা সাবেক মেয়র ও জেলা আ:লীগের সহ সভাপতি জনাব,আব্দুর রহমান মঞ্জু তিনি জানান ১৯৪৯সালে নদীগর্ভে বিলিন হওয়া পুরাতন শহর মাইজদীতে স্থানান্তরের পর ব্যবসায়ীদের রাস্তার পশ্চিম পাশ্বে ব্যবসা বানিজ্য ঘর বাড়ি মসজিদ মন্দির নির্মান করে অপর পাশ্বে ফোর লেন প্রকল্পে পৌরসভা কর্তৃক পূর্বে তৈরী হওয়া ছোট ও আকাঁ বাকা অগভীর ড্রেন রেখেই সড়ক বিভাগ ফোর লেনের ষ্টিমিট করে এতে শহর বাসী ক্ষুব্ধ।অথচ রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে সরকারী খালি জায়গা আছে। উভয় পার্শ্ব থেকে সমহারেজায়গা নিলে সরকারী অর্থের ও অপচয় হতো না।

[৪] সম্প্রতি সরেজমিনে সড়কটির বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে সোনাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশ ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বেগমগঞ্জ অংশের একলাশপুর বাজার ,গ্লোব কারখানা ও কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন অংশে দুই পাশেই চার লেনের কার্পেটিং করা হয়েছে এবং কিছু জায়গায় সড়ক ডিভাইডার বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কনট্রেক্টর পোল ,জযনাল আবেদিন মেমোরিয়াল স্কুল , গাবুয়া বাজার, রমজান বিবি,একলাশপুর এলাকায় সড়কের কাজ হয়েছে আংশিক। অপর দিকে সড়কের সোনাপুর অংশের নোয়াখালী গেট থেকে দক্ষিণ দিকে কিছু কিছু জায়গায় সড়কের একাংম প্রশস্ত করা অল্প কিছু কাজ হয়েছে।কিন্তু অদিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় মাইজদী বাজার থেকে সোনাপুর অংশে তেমন কোনো কাজই হয়নি । এঅংশে সড়কের দুই পাশের ২০০টির বেশি বানিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা রয়েছে যে গুলো ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় এনে রাস্তার অংশ অপসারণ করতে হবে। পরিদর্শন কালে দেখা যায়, সড়কের যেসব এলাকায় চার লেনের আংশিক কাজ হয়েছে, ওই সবএলাকা ছাড়া বাকি অংশ প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বর্ষায় ওই গর্তগুলো বড় হয়ে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অংশ থানা কাউন্সিল ও সোনাপুর এলাকায় সওজ থেকে ইটের সলিং করে দেওযা হয়েছে।কিন্তু জলবব্ধতায় তা নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু তাতে ও যানবাহন ও মানুষজনের চলাচলে ভোগান্তি বেড়ে যায়।

[৫] সওজ সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জের চৌরাস্তা থেকে সোনাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার নেলে উন্নীতি করার কাজ শুরু হয় ২০১৮সালে জানুয়ারি মাসে যদিও প্রকল্পের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে ২০১৭সালের শেষ দিকে। প্রকল্পটি চারটি ভাগে ভাগ করে টিকাদার নিয়োগ করা হয় । চার বছরের মধ্যে প্রকল্পটি কাজ শেষ করার কথা রয়েছে,সে হিসাবে ২০২১সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।১৩ কিলোমিটার সড়কের ছয় কিলোমিটার পড়েছে বেগমগঞ্জ উপজেলার মধ্যে,আর বাকী সাত কিলোমিটার সদরে
সওজের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল বলেন, জেলা প্রশাসনকে ভূমি অধিগ্রহনের সব টাকা পরিশোধ করার পরও শহর অংশে এ সংক্রান্ত এখন ও কোনো কাজ শেষ হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে অতিসম্প্রতি তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তখন জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। শহরে ভূমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পূর্ণ করা গেলে নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা এই প্রকৌশলীর।

[৬] জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন,বেগমগঞ্জ অংশের অধিগ্রহণ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাগজ পত্র সড়ক বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া সদর (সোনাপুর )অংশের ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ চলছে। সার্ভেযার ও তহশিলদার এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করছেন। সম্পাদনা: জেরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত