প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মশার ওষুধ সংকটে ডিএসসিসি

সুজিৎ নন্দী : [২] উড়ন্ত মশা মারার ওষুধ সংকটে পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। চাহিদার তুলনায় যৎসামান্য মজুত নিয়েই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাও চলছে ধারদেনা করে। বছরের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ওষুধ ফর্মুলেশনের টেন্ডার চূড়ান্ত করতে পারেনি সংস্থাটি। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, আমরা টেন্ডার কাজ চূড়ান্ত করতে না পারলেও ডিপিএমের মাধ্যমে কিছু ওষুধ নিয়েছি। সেগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ওষধের গুণগত মান কোন ভাবেই নষ্ট হবে না।

[৩] তিন দফা শেষে চতুর্থ দফায় আবারও পুনঃটেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এ অবস্থায়ও সিটি করপোরেশনের দাবি, তারা মশা নিয়ন্ত্রণে সফল। নগরবাসী বলছেন, নগরজুড়ে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আর সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বলছে, ডিএসসিসির ১৬টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে।

[৪] ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মামুনুর রহমান মামুন বলেন, মশা একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক সিটিতে নিয়ন্ত্রণ আর অন্য সিটিতে বেড়ে গেলে পরিস্থিতি একই হবে। তাই আমরা ডিএসসিসির প্রয়োজন হলে ওধুধ ধার দিয়ে থাকি। তারা আমাদের থেকে আগে ২৫ হাজার লিটার নিয়েছে। আবার ২৫ হাজারের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

[৫] গত বছর ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাবের পর বিদেশ থেকে সরাসরি ওষুধ আমদানি করার অনুমতি দেয়া হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। এরপর বিদেশ থেকে ম্যালাথিউন ৫ ভাগ আমদানি করে ডিএসসিসি। কিন্তু আমদানিকৃত ওষুধটি সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এর সঙ্গে ৯৫ শতাংশ ডিজেল ও ২৫ থেকে ৫০ এমএল সাইট্রোনেলা মিশ্রিত করে ছিটাতে হয়। এজন্য ডিজেল এবং ওষুধের ফর্মুলেশন (মিশ্রণ) সঠিক হতে হয়। আর এই কাজটি করার জন্য সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনও প্রযুক্তি নেই। এজন্য দ্বিতীয় পক্ষ দিয়ে কাজ করতে হয় নগর ভবনকে।

[৬] জানা যায়, ওষুধ ফর্মুলেশন করতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইডিং ওষুধের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসসিসি। তাতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এতে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড।

[৭] এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মেসার্স ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটারের জন্য দর দেয় ১৮৫ টাকা। আর তৃতীয় অবস্থানে ছিল জাহিন কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটারের দর দেয় ১৯৫ টাকা। কিন্তু প্রথম অবস্থায় কোনও প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দিয়ে ফের টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসসিসি।

[৮] পুনঃটেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় মেসার্স ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দর দেয় ১৫৫ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেসার্স দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস দর দিয়েছে ১৬৩ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মেসার্স নোকন লিমিটেড দর দেয় ১৮৩ টাকা। আর মেসার্স মার্শাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড চতুর্থ অবস্থান থেকে দর দেয় ১৮৯ টাকা। কিন্তু এই দফায়ও কাউকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। আহ্বান করা হয় পুনঃটেন্ডার।

[৯] তৃতীয় দফার টেন্ডারে দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড সর্বনিম্ন ১৩৩ টাকা দর দেয়। ১৪৮ টাকা দর দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করে এসিআই লিমিটেড। তৃতীয় স্থানে অবস্থান করে ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দর দেয় ১৪৯ টাকা। ১৫৫ টাকা দর দিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করে নোকন লিমিটেড। আর পঞ্চম ও সর্বোচ্চ দরদাতা হয় মার্শাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার ওষুধ ফর্মুলেশনের জন্য দর দিয়েছে ১৮৯ টাকা। কিন্তু এ পর্যায়েও কোনও প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত