প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]পিপলস লিজিংয়ের লেনদেন বন্ধে সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না ডিএসই

মো. আখতারুজ্জামান : [২] পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের বিষয়ে অনেকটা সিদ্ধান্ত হীনতার মধ্যে রয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ। বাদ্ধ হয়ে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন বন্ধের মেয়াদ ২২ দফায় বাড়িয়েছে ডিএসই।

[৩] ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন আরো ১৫ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ হিসেবে আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।

[৪] পিপলস লিজিংয়ের বিষয়টি আদালতে মামলাধিন থাকায় চুড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পাচ্ছে না ডিএসই।

[৫] জানা যায়, গত বছরের ১০ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, যারা এখানে আমানত রেখেছেন তাদের অর্থ দ্রæত আইন অনুযায়ী ফেরত দেয়া হবে। এক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা হবে।

[৬] কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, পিপলস লিজিংয়ের আমানতের পরিমাণ দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে সম্পদ আছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তবে অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়টা এখন হাইকোর্টের উপর নির্ভরশীল। যদি পাওনার তুলনায় দেনার পরিমাণ কম হয় তাহলে দিতেতো কোন অসুবিধা নেই। আর দেনা বেশি হয় সেটা আইন অনুযায়ী পাবে।

[৭] জানা যায়, পিপলস লিজিংয়ের আমানতের অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর জন্য প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে ১৫ লাখ টাকারও বেশি। চলতি বছরের গত অক্টোবর থেকে টাকা উদ্ধারে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ লাখ টাকা খরচ হলেও আমানতকারীদের অভিযোগ সর্বশেষ ১০ মাসে কোনো টাকা উদ্ধার করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন খরচ বাবদ আমানতের টাকা উদ্ধারে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর বিনিময়ে পিপলসের ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছ।

[৮] তবে, প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগকারিরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ দাবিকে নাকচ করছেন। বিনিয়োগকারিরা বলছে, পিপলস অবসায়নের সময় ১৫ কোটি টাকা কোম্পানির ক্যাশে ছিল। আর সেটাই উদ্ধার দেখাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

[৫] ডিএসই সূত্রে জানা যায়, এর আগে আরও ২১ দফা কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১ম দফায় ১৩ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত, ২য় দফায় ২৮ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ৩য় দফায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ৪র্থ দফায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত, ৫ম দফায় ১৩ অক্টোবর থেকে থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত, ৬ষ্ঠ দফায় ২৮ অক্টোবর থেকে থেকে ১১ নভেম্বর, ৭ম দফায় ১১ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত, ৮ম দফায় ২৬ নভেম্বর থেকে থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৯ম দফায় ১১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ১০ম দফায় ২৬ ডিসেম্বর থেকে থেকে ০৯ জানুয়ারি পর্যন্ত, ১১তম দফায় ১২ জানুয়ারি থেকে থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত, ১২তম দফায় ২৭ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত, ১৩তম দফায় ১২ থেকে ২৬ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত, ১৪তম দফায় ২৭ ফেব্রæয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত, ১৫তম দফায় ১৩ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ, ১৬তম দফায় ৩১ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত, ১৭তম দফায় ১৫ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত, ১৮তম দফায় ৩০ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত, ১৯তম দফায় ১৫ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত, ২০তম দফায় ৩০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এবং ২১তম দফায় ১৪ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ ছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত