প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোটালীপাড়ায় পঙ্গু প্রদীপ বাড়ৈ এখন শিক্ষার ফেরিওয়ালা

প্রথম রঞ্জন : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পঙ্গু প্রদীপ বাড়ৈ এখন শিক্ষার ফেরিওয়ালা হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। সড়ক দূর্ঘটনায় এক পা হারিয়ে তিনি এখন ক্র্যাচে ভর করে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

[৩] বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে পঙ্গু প্রদীপ বাড়ৈর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনায় তিনি শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৩৫ জন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। পঙ্গু প্রদীপ বাড়ৈ এসব শিশু শিক্ষার্থীদের বোঝান শুধু বই পড়ে বিদ্যালয়ে গেলেই সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যায় না। বই পড়ে শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই তোমরা সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে।

[৪] প্রদীপ বাড়ৈ কাছে পড়তে আসা চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী পূজাঁ বাড়ৈ, তৃতীয় শ্রেণীর পায়েল, পঞ্চম শ্রেণীর হিমচাঁদ জানায়, আগে বিদ্যালয়ের স্যারদের কাছে টাকা দিয়ে প্রাইভেট পরতাম প্রদীপ স্যারের কথা শুনে ওনার কাছে পড়তে আসি এখন আর আমাদের টাকা দিয়ে পড়তে হয় না।

[৫] প্রদীপ বাড়ৈর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে তিনি ঢাকায় খ্রীষ্ট ধর্মীয় একটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চে চাকরী নেন। চাকরীতে অবস্থান কালে ধর্মীয় প্রচারে যাবার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। প্রদীপ বাড়ৈ পা হারিয়ে বাড়ি চলে আসেন। বাড়িতে অবস্থান কালে তিনি সমাজের জন্য কিছু একটা করার পরিকল্পনা করেন। এর পর থেকে তিনি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে শিশু শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠদান শুরু করেন। সেই থেকে ক্র্যাচে ভর করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উপস্থিত হয়ে দেড়-শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পাঠদান করছেন।

[৬] তিনি আরো জানান, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে এবং মেয়ে প্রথম শ্রেণীতে লেখা-পড়া করে। বাড়ির পাশে নিজস্ব একটি চায়ের দোকানে স্ত্রী যে টাকা আয় করে তাহা দিয়ে ছেলের লেখা-পড়ার খরচ সহ কোন রকমের খেয়ে পরে বেচেঁ আছি। পঙ্গু হয়েছি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবো না। আমার পরিশ্রমে যদি কাহারো এতোটুকু উপকারে আসতে পারি তাহলে মানসিক ভাবে শান্তি পাব। নিজ বাড়ী সহ বিভিন্ন স্থানে বিনা বেতনে শিশু শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া শিখিয়ে যাচ্ছি। কোন মহল থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে আমি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এলাকার গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান আরও বাড়িয়ে দিতে পারবো। সম্পাদনা : হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত