প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যশোরে পাট চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

বাবুল আক্তার : [২] যশোরে গত কয়েক বছর পাটের চাষ বাড়লেও এ বছর শুরুতে (মার্চ) বৃষ্টি না থাকায় পাটের ফলন কম হয়েছে। আবার আগস্ট মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় যারা আবাদ করেছেন তাদের জাগ দিতে সহজ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ পাট কাটা হয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে পাটের দাম মণপ্রতি ১৯শ টাকা। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

[৩] যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যশোর জেলয় পাটের আবাদ করা হয় ১৮ হাজার ২৬৫ হেক্টর। যা থেকে পাট উৎপাদন হয়েছিল ৪২ হাজার ১০ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাটের আবাদ হয়েছিল ২০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে, পাট উৎপাদন হয়েছিল ৫০ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন। এবং চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে যশোর জেলায় পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার ৪ শত ২৯ হেক্টর জমি। পরে লক্ষমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে। এবছর পাটের ফলন কম হয়েছে।

[৪] শার্শা উপজেলার শালকোণা গ্রামের সাহেব আলী জানান, তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তবে পাট আবাদের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গাছগুলো তেমন বড় হয়নি। তারপরও চলতি মাসে ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় উৎপাদিত পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। পাটের রঙও ভালো হয়েছে। বর্তমানের আমাদের বাজারে ১৯শ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের লাভ হবে। বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রামের কৃষক আবুল বিশ্বাস জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে পাট কেটে জাগ দিয়েছি। আশা করছি ৪-৫ দিনের মধ্যে পাট বাজারে বিক্রি করতে পারব। তিনি বলেন, আমাদের বাজারে পাটের মণ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮৫০ টাকা থেকে ১৯শ টাকায়।

[৫] দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পাটের কয়েকটি পাটের মোকাম রয়েছে। এরমধ্যে যশোর ও মাগুরা সীমান্তে অবস্থিত সীমাখালি বাজার, খাজুরা বাজার অন্যতম। যশোর ও মাগুরার উৎপাদিত পাটের বড় একটি অংশ এসব বাজার থেকে বেচাকেনা হয়।

[৬] পাটের পাইকার ব্যবসায়ী শফিয়ার রহমান বলেন, অন্যান্য বছর সরকারি পাটকল কৃষকের কাছ থেকে পাটকল ১৩ লাখ বেল পাট কিনত। এবার সেই সুযোগ নেই। তারপরও বেসরকারি পাটগুলোতে পাটের চাহিদা রয়েছে। আমরা ভালোমানের পাট ১৯শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা মণ কিনছি।

[৭] কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৮২ লাখ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ৭ দশমিক ২৬ হেক্টর জমিতে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর দেশে ৬৮ লাখ বেল পাট উৎপাদন হয়। এরমধ্যে ১৩ লাখ বেল পাট সরকারি পাটকল কেনে। এরমধ্যে যশোরসহ দিক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাটকলগুলো প্রায় ৬০ শতাংশ পাট কিনে গুদামজাত করে থাকে।

[৮] আর স্থানীয় বাজার থেকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সারা বছরের পাট সংগ্রহ করে বেসরকারি খাতের মিলগুলো। আফিল গ্রুপের যশোরে আফিল উইভিং জুট মিলের ৪টি ইউনিট রয়েছে। গ্রুপের পরিচালক মাহবুব আলম লাবলু জানান, আমরা প্রতিবছর যশোর জেলা থেকে পাট সংগ্রহ করে থাকি। এখানকার উৎপাদিত পাটের মান ভালো। এবারও আমরা বিপুল পরিমাণ পাট কিনছি।

কৃষকরা জানান, সরকারকে নজর দিতে হবে যেন পাটের দরপতন না ঘটে।

[৯] যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বিরেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, যশোরের এবার পাটের ভাল ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষক তার পাট কেটে নদী-খাল বিলে জাগ দিয়েছেন। কাটার সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। এজন্য পাটের রঙও ভালোমানের হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষক পুরোদমে নতুন পাট বাজারে তুলবেন তারা। সরকার পাটের ন্যায্যদাম নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সম্পাদনা : হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত