প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শ্রীমঙ্গল বোমা মেশিন দিয়ে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার: [২] মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধ ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে ফসলি জমি ও ছড়া থেকে মূল্যবান সিলিকা বালু উত্তোলন করছেন একটি সিন্ডিকেট। এতে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ভূমিধস ও পানি সংকটের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। হুমকিতে রয়েছে তিন ইউনিয়নের অন্তত প্রায় ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম।

[৩] দীর্ঘ ১২ বছরধরে নির্বিঘ্নে বোমা মেশিন দিয়ে ফসলি জমি পুকুর আর ছড়া থেকে ‘সাদা সোনা’ বলে খ্যাত সিলিকা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ে ওই সিন্ডিকেট গ্রামীণ রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট ও ফসলি জমির ভূপ্রকৃতির অবস্থান বিনষ্ট করেছে। ফলে দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভূপৃষ্টের পানির সংকটসহ ভুমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব সিলিকা বালু প্রতি ফুট ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে ট্রাক যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এমন হরিলুট করে প্রভাবশালী চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

[৪] জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সাতগাঁও লছনা নামক স্থানে। সেখানে থেকে সাতগাঁও স্টেশন চৌমুহনা ও ভুনবীর চৌমুহনা থেকে মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশীর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দুপাশে অসংখ্য বালুর স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

[৫] বালু ব্যবসাটি এলাকায় এমন পরিস্থিতি ধারণ করেছে লাভজনক হওয়াতে গ্রামের ভেতর দিয়ে ছোট ছোট ছড়া ও গ্রামে পুকুর থেকে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসন অভিযানে আসলে বালু তোলার কৌশল পরিবর্তন করে এখন রাতের আধারেও চলছে মূল্যবান সিলিকা বালু হরিলুট।

[৬] উপজেলায় একটি সাধারণ বালু ও ২৮টি সিলিকা বালুসহ মোট ২৯টি বালুর মহাল রয়েছে। এরমধ্যে বড়ছড়া, ঝলমছড়া, ভুরভুরিয়া ছড়া, জৈনকাছড়া, খাইছড়া, শাওনছড়া, নুলুয়াছড়া, পুটিয়াছড়া, হুগলিছড়া, গান্ধিছড়া ও আমরাইলছড়ায় প্রায় একযুগ ধরে বালু উত্তোলনে ইজারা বন্দোবস্ত নেই। অথচ উপজেলাজুড়ে পাহাড়ি ছড়া, ছোট নদী ও ফসলি জমি থেকে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।

[৭] বেলা’র সিলেটের সমন্ধয়ক সাহেদা আক্তার বলেন, সিলিকা বালু তোলার কারণে ভূমিধস হচ্ছে এই কারণে হাইকোর্টে আমরা একটি রিট করেছিলাম। ছড়াগুলো বেশীর ভাগ বন ও চাবাগানের মধ্যে দিয়ে গেছি। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

[৮] এলাকাটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে একথা স্বীকার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দুইটি অভিযান চালিয়ে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। যদি বালু মহালগুলো ইজারা দেয়া হয় তা হলে আমার মনে হয় এটা রোধ করা সম্ভব হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত