প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ২০২২ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে : অর্থমন্ত্রী

সোহেল রহমান : [২] কাজ শেষ না হওয়ায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণ ও নদীশাসন কাজ তদারকিতে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ‘কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন’ (কেইসি)-এর মেয়াদ ৩৪ মাস বাড়ানোসহ ৬টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ৭৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

[৩] বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এক ভার্চুয়াল ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে এমনটাই ঠিক করা ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে পদ্মা সেতুর কাজ সময়মত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এ বছর যে ভয়াবহ বন্যা, যা কখনো কল্পনা করি নাই, এ বন্যার কারণেও কাজ বন্ধ রয়েছে। এসব কারণে আগামী জুনে এটির নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ২০২২ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছি। আমরা আশা করছি এর মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্বিক প্রকল্প ব্যয় যা ছিলো, তা-ই থাকবে। প্রকল্প ব্যয়ে এটা অলরেডি ধরা ছিলো, সেখান থেকেই এ্যাডজাস্ট করা হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, বর্ধিত সময়ের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ৩৪৮ কোটি ১ লাখ টাকা দিতে হবে।

[৪] সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নিয়োগকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেইসি’র চুক্তির মেয়াদ চলতি আগস্টে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণ ও নদীশাসন কাজের মেয়াদ ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রকল্পের ডিফল্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড হচ্ছে ১ বছর। অর্থাৎ ২০২৩ সালে জুন পর্যন্ত। সে হিসাবে পরামর্শক সেবার সময়সীমা আরও ৩৪ মাস বাড়ানো প্রয়োজন। জানা যায়, গত জুলাই পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হচ্ছে ৮১ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং নদী শাসনের অগ্রতি ৭৪ শতাংশ।

[৫] বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য ক্রয় প্রস্তাবগুলোর মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পে ‘গ্রীন সিটি আবাসিক পল্লী’ নির্মাণের আওতায় ৪টি ২০তলা এবং ৬টি ১৬ তলা আবাসিক ভবনের ৯৫৬টি ইউনিটে আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি ফার্নিচার ক্রয়ে পৃথক দুটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ই-জিপি আইডি নং ৪৭৯৬৫৪ দরপত্রের বিপরীতে আসবাবপত্র ক্রয়ে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আসবাবপত্র সরবরাহের এ কাজটি পেয়েছে ‘হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড’।

[৬] অন্যদিকে ই-জিপি আইডি নং ৪৭৯৬০৯ দরপত্রের বিপরীতে গৃহস্থালি ফার্নিচার ক্রয়ে ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এটি সরবরাহের কাজটি পেয়েছে ‘মেসার্স জে এ পি ট্রেডিং’।

[৭] এছাড়া বৈঠকে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে বিতরণের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্য পুস্তক মুদ্রণ ও বাঁধাই এবং কাগজ ও আর্ট কার্ড সংগ্রহের পৃথক তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের ৬ কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৭টি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ৭৫টি লটে ৭৫টি প্রতিষ্ঠান এসব বই সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ৬৮ কোটি ১ লাখ টাকা।

[৮] বিনামূল্যের পাঠ্য পুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হচ্ছে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ইবতেদায়ি, দাখিল, এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল এবং কারিগরি (ট্রেড বই) স্তরের ১২ কোটি ২০ লাখ ৭৪ হাজার ৩৮০টি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য ২১০টি লটের দরপ্রস্তাব অনুমোদন। এতে ব্যয় হবে ২০৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

[৯] এছাড়া ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজী ভার্সন) স্তরের বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে ১২ হাজার মেটিক টন মুদ্রণ কাগজ এবং ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন আর্ট কার্ড ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৪টি লটে এগুলো ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি ৩ লাখ টাকা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত