প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‍বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পূণর্বাসনে এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

আনিস তপন: [২] মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে অনলাইনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ সংক্রান্ত আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

[৩] প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরাদ্দ দেয়া টাকার মধ্য নগদ টাকা ৪ কোটি ৪১ লাখ, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ নগদ এক কোটি ৫৮ লাখ টাকা, গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ।

[৪] এছাড়াও শুকনো ও অন্যান্য খাবারের এক লাখ ৮১ হাজার প্যাকেট এবং ৬৫০ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বন্যা উপদ্রুত ৩৩ জেলাসহ দেশের ৬৪ টি জেলায় এক কোটি ৬ হাজার ৮৬৯টি পরিবারকে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে এক লক্ষ ৬৮ মেট্রিক ৬৯ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ।

[৫] এছাড়া বন্যায় ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র, গবাদিপশু, শস্য ক্ষেত ও বীজতলা, মৎস্য খামার, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ লাইন, মোবাইল ফোন লাইন, টেলিফোন টাওয়ার, সড়ক, ব্রিজ- কালভার্ট, বাঁধ, নদী, হাওর, নৌকা-ট্রলার, জাল, বনাঞ্চল, নার্সারি, কৃষি, নলকূপ, ল্যাট্রিন, জলাধার, হাসপাতাল-ক্লিনিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে।

[৬] তিনি বলেন, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, সিলেট, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, নওগাঁ, শরীয়তপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, নাটোর, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও পাবনা জেলায় বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

[৭] প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, যেখানে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন সেই পরিমাণ অর্থ তিনি খরচ করতে বলেছেন। আরও অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি বরাদ্দ দেবেন।

[৮] গত ২৬ জুন থেকে চার দফা বন্যা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা কবলিত জনগণের জন্য আমরা পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সেটা বিতরণ করেছেন।

[৯] এছাড়া পূনর্বাসন পরিকল্পনা বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের জন্য কর্মসৃজনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বন্যা ও নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ী মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ বাবদ মঞ্জুরি দেয়া হবে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা রাস্তা মেরামত ও পুনর্নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

[১০] জাইকা ১১৩ কোটি টাকা সাহায্য দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেটা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দেয়া হবে। তারা তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি আছে সেটা পূরণের জন্য কাজ করে যাবে।

[১১] তাছাড়ার বন্যা পুনর্বাসনে সহনীয় করতে ১১০টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, ২০ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র এবং ৫৭টি মুজিব কেল্লা এক বছরের মধ্যে করার জন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষকে দ্রুত সরিয়ে আনার জন্য এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য ৬০টি মাল্টিপারপাস রেস্কিউ বোট তৈরির কাজ চলছে। যা আগামী এক বছরের মধ্যে ২০টি ও পরবর্তী তিন বছরে মধ্যে ৬০টি বোট পাওয়া যাবে।

এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করবে সড়ক বিভাগ, বীজতলা তৈরি ও চারা, সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করবে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসনে সহজ শর্তে ঋণ দেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খোলার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত করবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলে জানান এনামুর রহমান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত