প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিররঞ্জন সরকার: প্রেমের পত্র, আহা! প্রেমপত্র

চিররঞ্জন সরকার: আমি নিজে কখনো কাউকে প্রেমপত্র লিখিনি। সে সুযোগ হয়নি। কিন্তু কাউকে কাউকে লেখার প্রবল ইচ্ছে হয়েছে ঠিকই। যে-কথাটা বলার অসীম ইচ্ছে নিয়ে ঘুরেছি, অনেক চেষ্টা করেও তা মুখ ফুটে বলতে পারিনি, বলার সাহস হয়নি। আমাদের সময়ে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরই বুক ফাটলেও মুখ ফুটতো না। কেবলই মনে মনে হাহাকার। কেবলই আকার-ইঙ্গিতে বোঝানোর ব্যাকুল চেষ্টা। কিন্তু সাহস করে বলা বা লেখা-এটা খুব কমই ঘটত। এর মধ্যেও কোনো কোনো অসীম সাহসী ঠিকই বলত। লিখত। তাদের প্রেমও হতো। যদিও বিয়ে হতো খুব কম। যাহোক, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন দুয়েকজন বন্ধুর হয়ে প্রেমপত্র লিখে দিয়েছি। আমার হাতের লেখা ভালো ছিল। প্রচুর কবিতা পড়তাম। বাংলায় কিছুটা দখলও ছিল। আর নিজের অব্যক্ত প্রেমের অনুভূতি তো ছিলই। সব মিলিয়ে দারুণ সব ফরমায়েশি প্রেমপত্র লিখে দিতাম।

যারা এগুলো পাঠাতো, তারা প্রেয়সীর কাছে ছিল খুবই হিট। আহ্লাদিত প্রেমিকজন অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এ খবর আমাকে জানাতো। এতে আমিও পুলক-বোধ করতাম। ঘুষ হিসেবে চা-নাস্তাও পেতাম। একবার এক বন্ধু তার এলাকার এক মেয়ের প্রেমে পড়েছে বলে জানাল। বললো দারুণ একটা চিঠি লিখে দিতে।

আমি ‘নীরব’ হোটেলে খাওয়ানোর শর্তে দেশ পত্রিকায় সদ্য পড়া সুনীলের প্রেমের চিঠি নকল করে মেরে দিলাম, ‘আমি তোমার যোগ্য নই, কিন্তু ক্রমশ যোগ্য হয়ে উঠতে পারি, হতে শুরু করেছি, তোমার সঙ্গে দেখা হবার পর থেকেই আমার নিজের মধ্যে একটা পবিত্রতার স্পর্শ ও বোধ পেয়েছি। তুমি আমার জীবনকে স্নিগ্ধ করে দিতে পারো। আমি তোমাকে জানি। আমি তোমাকে দেখেই তোমাকে সম্পূর্ণ জেনেছি। মানুষ চিনতে আমার কখনো ভুল হয় না, আমার চোখের দৃষ্টি কতো তীক্ষ্ম তুমি জানো না। আমি তোমাকে দেখেই জেনেছি- তোমার এমন অনেক দুর্লভ গুণ আছে, যা তুমি নিজেই জানো না। তুমি কি সত্যিই আমাকে গ্রহণ করবে?’ সেই প্রেমটা হয়েছিল। এখন মাঝে মাঝে ভাবি, আমাদের যৌবনটা আমরা কতো অর্থহীন আনন্দেই না কাটিয়েছি। জীবনটা কতো বাহুল্য ঘটনা, ফালতু স্মৃতি আর আহাম্মকি ভরা অভিজ্ঞতার সমাহার। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত