প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাতেই ভরসা

দীপক চৌধুরী : ‘খলনায়ক বিতর্ক’ চলছে। বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞের ‘আসল খলনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পর একইভাবে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মতো আরেকটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞে একই চরিত্রে আবির্ভূত হন।’ আর বিএনপি বলছে, ‘খলনায়ক’ আওয়ামী লীগেই আছে। আসলে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এখনো নানাভাবে সমালোচিত ও অনেকের কাছে ঘৃণিত। গায়ের জোর আর পায়ের জোরে মারামারি করা যায়, রাজনীতি নয়। রাজনীতি করতে গণমানুষের কাছে, তাদের দোরগোড়ায় যেতে হয়। কিন্তু কয়েকদশক ধরেই এদেশে এসব শব্দ আর আলোচনায় থাকছে না। অতীত কী বলে, হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত কারা করেছিল, কেন করেছিল তাতো ইতিহাসেই লিখা আছে? নিশ্চয়ই, এটুকু এখন বলাই যায় যে, কোনো হত্যাকাণ্ডেরই বিচার দেরি করা ঠিক নয়। বিলম্ব করা মানেই অপরাধীরা প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে সুযোগ নিয়ে থাকে। ঘাতকরা সুযোগ পেলেই ডালপালা মেলে। ইতিহাস নিজের মতো করে তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একুশ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় এখনো কার্যকর হয়নি। ২০১১-এর ৩ জুলাই সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাতেই ভরসা। জনগণ বিশ^াস করে, বঙ্গবন্ধু হত্যার যেহেতু বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের যেহেতু বিচার হয়েছে ও হচ্ছে সুতরাং একুশ আগস্টের ঘাতকদের বিচার হবেই।
আগস্ট শোকের মাস। এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, এ মাসেই বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। একটির তারিখ ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট। আড়াই তলা বাড়িটির দুই রুমবিশিষ্ট দোতলায় থাকতেন বঙ্গবন্ধু। দেশের এতো বড় নেতা হলেও তিনি যে কত মহান, মিতব্যয়ী ও স্পষ্টবাদী ছিলেন তা আজো গভীরভাবে গবেষণার বিষয়। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেল ছিল ঘাতকের শেষ শিকার। রাসেল শহীদ হওয়ার পর ঘাতকদের একজন নাকি উদ্ধত কণ্ঠে তাদের কর্মকর্তাদের খবর দেয়- ‘স্যার, সব শেষ।’

আজ ৪৫ বছর পর অবশ্যই ভাবনায় আসে, আসলে কী সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কখনো না। ব্যক্তি রাসেলকে হত্যা করা হলেও লক্ষ- কোটি রাসেল মানুষের মধ্যে বিরাজিত। ১৫ আগস্ট রাতের দুঃসহ স্মৃতি আজও জাতিকে রক্তাক্ত আর বিষণ্ন করে তোলে। আজও বাংলাদেশের মানুষ স্তম্ভিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে ইতিহাসের কলঙ্কিত, জঘন্যতম ও অভিশপ্ত সেই অধ্যায়ের কথা ভেবে। সেদিন ভোররাতে ঘাতকের বুলেটে সপরিবারে শহীদ হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নৃশংসতায় হত্যা করা হয় তার পরিবারের নারী-শিশুদেরও। আর অন্যটির তারিখ ২০০৪-এর ২১ আগস্ট, টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। রাজধানী ঢাকার বুকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশে চালানো হয় নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ। হামলার উদ্দেশ্য ও প্রধান টার্গেট ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। খুন হত্যা ও জঙ্গিবাদদের হাত থেকে দেশ ও মানুষদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি করলেও এখনো সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নানান ফাঁক খুঁজছে। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগুতে হলে উন্নয়ন ও সংস্কার এর রাজনীতি করতে হবে। ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকালে খুনি ও জঙ্গিদের লালন করে গণতন্ত্রের নাটক করছেন। যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের দেশপ্রেমিক বলেছেন, মন্ত্রী বানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয়পতাকা তাদের বাড়ি-গাড়িতে তুলে দেন তিনি। বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানও এই কাজটি করেছেন। যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, খুনিকে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়েছেন। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবার পর সেই যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদেও ফাঁসি হয়েছে। সেই সব খুনিদের বিচার করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এটা কী কখনো মিথ্যা যে, যুদ্ধাপরাধী ও খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া। ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান যেমন খুনিদের ‘পুরস্কৃত’ করেছিলেন, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে ‘একই ঘটনা ঘটিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমান যেমন সেই আবদুল আলিম থেকে শুরু করে মাওলানা মান্নান, শাহ আজিজ থেকে শুরু করে তাদেরকে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা বানিয়েছিল, একইভাবে আমরা দেখেছি খালেদা জিয়া সেই নিজামী থেকে শুরু করে যারা যারা একেবারে সরাসরি বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছিল, খুনি রশীদ এবং হুদা- তাদের ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে এনে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসান।”

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচারিক আদালতের রায়ে যা দেখা যায়- তাতে পরিষ্কার হয়ে ওঠে ঘটনার গভীরতা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, জঙ্গি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ১৯ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই বিচারিক আদালতের রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির নেতা হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আরিফুল ইসলাম আরিফসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী দুই জঙ্গি মুরসালিন ও মুত্তাকিন অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর প্রায় দেড় দশক ধরে ভারতের কারাগারে আছে। তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জনকে মামলার নথিতে পলাতক দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে তারেক ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে আছেন। হারিছ চৌধুরী ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিলেট সীমান্ত দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নয়। তাদের বর্তমান অবস্থান জানা যায়নি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তাজউদ্দিন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে বলে জানা যায়। হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ও লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার ও কায়কোবাদ বিদেশে। সুতরাং লজ্জামিশ্রিত অপকর্মের শিরোমণি ঘাতকদের বিচার চায় বাংলার মানুষ। তাদের শিরদাঁড়া ভাঙতেই হবে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত