প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামের বিজয় না দেখেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন এই মহীয়সী নারী

তিনি স্বপ্নে দেখলেন তার কাছে সূর্য এসে পরেছে। ভাই নওফেলের কাছ থেকে জানতে পারেন কোন নবী হয়ত তার স্বামী হবে। ভাবলেন এও কী সম্ভব!! ইতোপূর্বে দুইটি বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু দুজন স্বামী-ই মারা যান। বিয়ের প্রতি যে আর কোন আগ্রহই নাই।।

এরই মধ্যে ব্যবসায়ের কাজে মুহাম্মাদ নামে একজনকে নিয়োগ দিয়ে সিরিয়া পাঠালেন, সঙ্গে একজন দাসকেও পাঠালেন মনিটরিং-এর জন্য। ব্যবসায়ের সফলতা ও সততা এবং সাথে দাসের মুখে প্রশংসা শুনে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান এবং চাচা আবু তালিব রাজি হন ভাইস্তার বিয়ের জন্য।।

বিয়ের পর ব্যবসায়ের হাল ধরতে চাইলেও স্ত্রী চান নি স্বামী এ কাজে সময় নষ্ট করুক। যে কীনা নবী হবেন সে কী করে পার্থিব এসব কাছে মনোযোগ দিয়ে সময় নষ্ট করবে?? ব্যবসা আগের মতই নিজেই সামলেছেন তবে বাইরে গিয়ে নয় বরং লোকের মাধ্যমে বাইরের কাজ ও মনিটরিং করেছেন এবং ঘরে সংসার সামলিয়েছেন আর স্বামীকে সেবা করে গেছেন।
যারা ব্যবসায়ী হিসেবে এই মহীয়সীর উদাহরন দিয়ে ৯-৬ টা অফিস বা বাইরে কাজ করেন তাদের রিকোয়েস্ট করছি ভালমত কর্মপন্থা জেনে তার উদাহরণ ব্যবহার করুন।

যাই হোক তিনি ঘর সামলাচ্ছেন, ব্যবসা সামলাচ্ছেন আর প্রতিক্ষায় আছেন কখন তার স্বামী নবী হবেন!! ১৫ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে। নবীজী ﷺ ওহী নাযিলের ঘটনা যখন বর্ননা করছিলেন, এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছিলেন।।

তার পরের পথ খুব সহজ ছিল না। তিন বছর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবরুদ্ধের মধ্যে কাটাতে হয়েছে এই ধনীর দুলালীকে। গাছের বাকল, লতাপাতা খেয়ে জীবন কেটেছে এ সময়ে। বলা যতটা সহজ চিন্তা করা অনেক কঠিন আর সিচুয়েশন ফেইস করা তো আরো কঠিন।

প্রথম পুত্র মারা যাওয়ার পর খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। খুব চাচ্ছিলেন একটি পুত্র সন্তান উপহার দিতে প্রিয় স্বামীকে। দ্বিতীয় পুত্রসন্তান হওয়ার পর সে কী আনন্দ। কিন্তু নাহ, তাও কপালে সইলোনা। এই সন্তানও মারা গেছেন।।

অন্তীম সময় চলে এসেছে। চার কন্যা সন্তান আর প্রিয় স্বামীকে রেখে চলে যাচ্ছেন না ফেরার দেশে। যেই স্বামী যত রাতই হোক দরজায় নক করার পর অপেক্ষা করতে হয়নি, সাথে সাথে দরজা খুলে দিত সেই স্বামীকে ছেড়ে কী করে চলে যাবে? স্বামী বাইরে নবুয়্যতের কাজ করবে আর স্ত্রী হয়ে বিছানায় পিঠ লাগাবে এ কী করে সম্ভব!! তাই যতক্ষন স্বামী বাইরে থাকতেন ততক্ষন দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন যেন কোন কারনে স্বামীকে অপেক্ষা করে কষ্ট করতে না হয়!!!!

বড় কষ্ট হচ্ছে এমন প্রানের চেয়েও প্রিয় স্বামীকে ছেড়েই চলে যেতে হচ্ছে!!! যে ইসলামের জন্য এত ত্যাগ তিতিক্ষা তার বিজয় না দেখেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন এই মহীয়সী নারী।।

খাদিজা বিনতে কুবরা রাদিয়াল্লাহু আনহা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত