প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈরুতে কেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে গেল ইসরাইল ?

রাশিদ রিয়াজ : রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে এ ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক রক্তক্ষয়ী হামলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে :

১ । কৃত্রিম মেকী বর্ণবাদী ইসরাইলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান : ইসরাইল বৈরুতে এ বিস্ফোরণের অল্প কিছু দিন আগে সিরিয়ায় এক হামলায় হিজবুল্লাহর এক যোদ্ধাকে শহীদ করলে হিজবুল্লাহ এ কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিশোধ নেয়ার কথা ঘোষণা করে । হিজবুল্লাহ যাতে তাৎক্ষণিক এ প্রতিশোধ গ্রহণ করতে না পারে সেজন্য ইসরাইল বৈরুতে এ ধরনের হামলা চালিয়েছে । কারণ এরফলে কিছু কালের জন্য হিজবুল্লাহ এ বিস্ফোরণ উত্তর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যস্ত হয়ে যাবে এবং প্রতিশোধ গ্রহণ সাময়িক ভাবে হলেও স্থগিত রাখতে হবে । ( তবে এখানে স্মর্তব্য যে হিজবুল্লাহ প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে পিছিয়ে আসবে না বরং উপযুক্ত সময় ও পরিস্থিতিতে ইসরাইলের কাছ থেকে এ জঘন্য অপকর্মের তীব্র প্রতিশোধ গ্রহণ করবেই । বরং ইসরাইলকে আরো বেশি উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত এবং হিজবুল্লাহর প্রতিশোধের অপেক্ষায় থাকতেই হবে এবং ইসরাইলীদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে যাবে ।)

২। হিজবুল্লাহর প্রভাব ও শক্তি খর্ব ও নিরস্ত্রীকরণ : বিস্ফোরণের দায় দায়িত্ব হিজবুল্লাহর ঘাড়ে চাপিয়ে লেবাননের নাগরিকদের কাছে হিজবুল্লাহ কে সন্ত্রাসী এবং দেশটির শান্তি – শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিনষ্টকারী বলে চিহ্নিত করা এবং বৈরুত বন্দরে এ্যমোনিয়াম নাইট্রেটের ডিপোটি হিজবুল্লাহর বলে প্রচার করে লেবাননীদের কাছে হিজবুল্লাহর জনপ্রিয়তা হ্রাস করা ও এর নিরস্ত্রী করনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ( আর এটা করতে পারলে কার্যত: ইসরাইলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান বহুলাংশে সম্ভব হবে । )

৩। পাশ্চাত্য ইসরাইল প্রতিক্রিয়াশীল আরব রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে লেবাননের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ : এ বিস্ফোরণের অজুহাতে নিঃসন্দেহে লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও নাক গলানোর চেষ্টা করবে পাশ্চাত্য – ইসরাইল – আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্র । তবে হিজবুল্লাহ ও লেবাননের জাগ্রত জনতা এ উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিবে ।

৪. পাশ্চাত্য – ইসরাইল – আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্র কর্তৃক লেবাননের শাসন ব্যবস্থা ও সরকারে হস্তক্ষেপের চেষ্টা : এই মহা বিস্ফোরণের সুযোগ ও অজুহাতে এই অশুভ চক্রটি লেবাননের রাজনীতি , সরকার ও শাসন ব্যবস্থায় অযাচিত অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করবে । কারণ , হিজবুল্লাহ লেবাননের পার্লামেন্ট ও সরকারে অন্য সকল রাজনৈতিক দল , গোষ্ঠী ও মোর্চার চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে এবং হিজবুল্লাহর অংশগ্রহণ ও সম্মতি ব্যতীত লেবানন সরকার কার্যত: অচল । আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব ( যিনি বর্তমানে কেয়ার টেকার সরকা প্রধান হিসেবে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তিনি )গত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি পাশ্চাত্য – ইসরাইল – আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ( আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্র : সৌদি আমিরাতের নেতৃত্বে আরব রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহ ও মিসর ) প্রভাব মুক্ত এবং হিজবুল্লাহ , লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন ও দেশটির জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ কারী দলসমূহের সমর্থনপুষ্ট ।

উল্লেখ্য যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল অওনও হিজবুল্লাহ , লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন এবং লেবাননের জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ কারী দলসমূহ কর্তৃক সমর্থিত । আর লেবানন পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহ ও তাদের সমর্থিত মোর্চাই হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ট । উল্লেখ্য যে লেবাননের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো পাশ্চাত্য বিশেষ করে ফ্রান্স কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত বিভাজনের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক ব্যবস্থা যা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে সাম্প্রদায়িক ও গোষ্ঠীতান্ত্রিক স্বার্থ এবং পাশ্চাত্য ও বিদেশি গড ফাদারদের স্বার্থই সংরক্ষণ করত । কিন্তু হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে লেবাননের জাতীয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ কারী দলগুলো বিগত তিন দশকে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারায় পাশ্চাত্য প্রবর্তিত দেশটির গোষ্ঠী তান্ত্রিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি , রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার উপর প্রভাব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে । তাই তা পাশ্চাত্যের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে বিধায় পাশ্চাত্য এ ব্যবস্থা পাল্টে সেখানে আরো প্রতিক্রিয়াশীল সরকার ও শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় যা পাশ্চাত্য ইসরাইল আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে ।

তাই বৈরুত বন্দরে উক্ত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঠিক পরপরই ফরাসী প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো লেবাননে নতুন অর্ডার ও শাসন ব্যবস্থার প্রস্তাব নিয়ে বৈরুতে উপস্থিত হয় এবং সেখানে পাশ্চাত্যপন্থী দলগুলোর আয়োজিত সমাবেশে এ প্রস্তাব উত্থাপন করে । আর ম্যাক্রোর সমর্থন ও উস্কানিতে ঐ সব পাশ্চাত্যপন্থী দল ও গোষ্ঠীগুলো হাসান দিয়াব সরকার ও প্রেসিডেন্ট মিশেল অওনের পদত্যাগ দাবি করে । সে যা হোক , ঐ বিস্ফোরণ সহ রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি আসলে পূর্ববর্তী পাশ্চাত্য পন্থী সরকার সমূহ বিশেষ করে ফুআদ সিনিওরা ও সা’দ হারীরীর শাসনামলে লেবাননে দানা বেঁধে মহীরুহে পরিণত হয়েছে । তাই এ কারণে অল্প কিছু দিন ধরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব সরকারকে দায়ী করা যায় না । আসলে এটা নিশ্চিত যে হিজবুল্লাহ পাশ্চাত্যের এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেবে ।

৫ । সা’দ হারীরী বা অন্য কোনো পাশ্চাত্যপন্থীকে লেবাননের সরকার প্রধান ও প্রেসিডেন্টের পদে বসানো : এটা এ বিস্ফোরণের এক অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে । তবে রফিক হারীরী হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইব্যুনালে বাদী সাদ হারীরীর বিপক্ষে চার অভিযুক্ত ব্যক্তির তিন জনকে হত্যার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করে দেন বিচারক এবং সাদ হারীরীর অভিযোগ বাতিল করে দিয়েছেন । তাই এই আইনী পরাজয়ের কারণে সাদা হারীরীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব নয় ( কারণ এ রায়ের পরে এখন সে পোড়া গুটির মতো হয়ে গেছে । )। তাই নতুন অন্য কোনো মুখের সন্ধান করতে হবে উক্ত পাশ্চাত্য ইসরাইল আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে । আর নতুন মুখকে ক্ষমতায় আনলেও পাশ্চাত্য হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলন ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ কারী দলগুলোর মোর্চাকে লেবাননের রাজনৈতিক – প্রশাসনিক অঙ্গন থেকে বিদায় করতে পারবে না বরং পাশ্চাত্য পন্থী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে হয় ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতার রঙ্গমঞ্চ থেকে বিদায় নেবে হিজবুল্লাহর নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে অসহযোগিতা করার জন্যে নতুবা এই জোটের সাথে টিকে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে তাঁকে এডজাস্ট করতে হবে । উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ আন্দোলন স্বকীয় প্রভাব ও ভাবমূর্তি নিয়ে বহাল থাকবে যা ইসরাইলের জন্য মোটেও সুখকর ও সুখবর নয় । আর নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে পাশ্চাত্য ইসরাইল আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের পক্ষে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা যেমন কঠিন ঠিক তেমনি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলনের সাথে পেরে ওঠা ও জয়লাভ করা সহজ নয় ।

৬ । লেবাননে সার্বিক ভাবে পাশ্চাত্য – ইসরাইল – প্রতিক্রিয়াশীল আরব চক্রের প্রভাব বৃদ্ধি : এই বিস্ফোরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করবে এই ইসরায়েলি চক্রটি । তবে হিজবুল্লাহর মতো অতন্দ্র প্রহরী তা ভণ্ডুল ও ব্যর্থ করে দিবে নি: সন্দেহে ।
৭। সিরিয়া ও অত্র অঞ্চলের উপর প্রভাব বিস্তার : এই বিস্ফোরণের এক অন্যতম কারণ সম্ভবতঃ এটাও হতে পারে । সিরিয়া , ইরাক ও ইয়েমেনে এই চক্রটির সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বেকায়দায় আছে এবং প্রতিরোধ সংগ্রামীদের হাতে পরাস্ত ও নাস্তানাবুদ হচ্ছে । তাদের মনোবল চাঙ্গা ও তাদের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে এই বিস্ফোরণের মতো আরও ভয়ঙ্কর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও বিপর্যয় ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে এই চক্রটি । শুধু এই কয়টি দেশেই নয় বরং ইরান , কাজাখস্তান , মধ্য এশিয়া , আফগানিস্তান , পাকিস্তান , তুরস্ক , ইন্দোনেশিয়া , নাইজেরিয়া , সুদান , আলজেরিয়া , বাংলাদেশের মতো মুসলিম দেশগুলোতেও এ ধরণের বিস্ফোরণ ও বিপর্যয় ঘটাতে পারে এ চক্র । তাই এ সব দেশকে সাবধান হতে হবে এ ইবলীসী চক্রটির অপতৎপরতা থেকে ।

৮ । লেবানন – ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনকে দুর্বল করা : এ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এর দায় দায়িত্ব হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের ঘাড়ে চাপিয়ে এ আন্দোলনকে নিরস্ত্রীকরন করে দুর্বল করা এমনকি এ আন্দোলনের সামরিক শাখাকেও নিষিদ্ধ ও বিলুপ্ত করা । আর এ আন্দোলনকে দুর্বল করা সম্ভব হলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনকেও ( হামাস , জিহাদ – ই ইসলামী ইত্যাদি ) দুর্বল করা সম্ভব হবে যেমন : নিরস্ত্রীকরণের মতো বিভিন্নভাবে ও কায়দায় ।

৯ । লেবাননকে অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু ও দুর্বল করা । কারণ দেশটির ৮০ – ৯০ ./. আমদানি রপ্তানি এই বৈরুত সমুদ্র বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হত এ মহা বিস্ফোরণের আগে । এ ছাড়া এ বন্দরেই ছিল খাদ্য সামগ্রী সংরক্ষণ ও মজুদের সাইলো ফ্যাসিলিটিসমূহ যেগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে । তিন মাসের খাদ্য মজুদ ও সংরক্ষণের ক্যাপাসিটি এ বিস্ফোরণের পর এক মাসে নেমে এসেছে যারফলে খাদ্য সংকট ঘটিয়ে দুর্ভিক্ষ লাগানোর চেষ্টায় থাকতে পারে এ চক্রটি । আর এ বিস্ফোরণে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে এবং দেশটির প্রাথমিক স্থাপনা ভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলার । আবার বন্দর স্থাপনা ও ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক এলাকা সমূহ পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের কন্ট্রাক্ট পাশ্চাত্য নির্মাণ কোম্পানি সমূহ বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে । এভাবে লাভ করার স্বপ্ন দেখে থাকতে পারে পাশ্চাত্য ।

১০ । লেবাননের সম্ভাব্য পেট্রোলিয়াম ও গ্যাসের খনির উপর কব্জা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা : এ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাশ্চাত্য ইসরাইল আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্র চাচ্ছে লেবাননের হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলন সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে পাশ্চাত্যপন্থী সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে ভূমধ্য সাগরে ইসরাইল লেবানন উপকূলে লেবাননের সম্ভাব্য তেল ও গ্যাস সম্পদ কব্জা করতে । আর এটা করতে পারলে বিশেষ করে ইসরাইল অর্থনৈতিক ভাবে প্রভূত লাভবান হবে ।

তাই উপরিউক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গুলো বিবেচনা করলে এ বিস্ফোরণের পেছনে পাশ্চাত্য – ইসরাইল – আরব প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় । আর খবরে প্রকাশ যে বৈরুতে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত নিয়ে ট্রাম্প ও লেবানন সরকার নিশ্চিত । তবে হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণকারী দলসমূহের মোর্চা উক্ত  চক্রটির এ সব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যর্থ ও বাতিল করে দিবে ইনশাআল্লাহ ।

 

সর্বাধিক পঠিত