প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই চক্রের ১১ জন সদস্য গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : রাজধানীর পল্টন, রায়সাহেব বাজার ও নর্দাসহ গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুরান ঢাকার কোতয়ালি থানা এলাকায় ডিবি পরিচয়ে একজন কাপড় ব্যবসায়ীর ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, চক্রের সদস্যরা গ্রুপ তৈরি করে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় ছিনতাইয়ের এলাকা ঠিক করে নিতো। এরপর ছিনতাই করতো।

গ্রেপ্তার ১১ জন হলো- সরোয়ার হোসেন ওরফে সরোয়ার খাঁ, মো. দুলাল (৩৮), আনোয়ার গুলদার (৪২), আমির (৩৮), মো. নাছির হাওলাদার (২৮), ইমন ওরফে কাজল কুমার দে (২৮), মো. ইকবাল (৩৪), মো. সোহাগ খান (২৩), মো. জাকির হোসেন (৩৮), মো. সুমন (৩০) ও মো. রমজান (২৭)। তাদের কাছ থেকে একজোড়া হ্যান্ডকাপ, ২টি ডিবি জ্যাকেট ও ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির কোতায়ালী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. সাইফুল আলম মুজাহিদ বলেন, গত ১৭ আগস্ট কোতয়ালির জনসন রোডে ডিবি পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় মামলা হলে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থলের আশাপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ১৯ আগস্ট রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে চক্রের ১১ জন ছিনতাইকারী গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই দিনই গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের ইকবাল, জাকির ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে পরদিন টঙ্গীর চেরাগ আলী থেকে সরোয়ার খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সরোয়ারকে নিয়ে পল্টন ও নর্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুলাল, আনোয়ার, আমির, নাসির, ইমন ও রমজানদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সোহাগ, ইকবাল ও দুলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে অন্য ৮ জনকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এসি কোতয়ালি মো. সাইফুল আলম মুজাহিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা গ্রুপ তৈরি করে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় ঠিক করে নিতো, কোন এলাকায় ছিনতাই করবে। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান নিয়ে টার্গেটকে অনুসরণ করতো। তারপর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে টার্গেট ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করার নাম করে টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিতো।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

 

সর্বাধিক পঠিত