প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালীগঞ্জে ভিয়েতনামী ড্রাগন ফল চাষে সফল যুবক সামাদ

ফিরোজ আহম্মেদ: [২] ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাণিজ্যিক ভাবে ভিয়েতনামী লাল জাতের ড্রাগন চাষ করে সফলতা পেয়েছেন যুবক আব্দুস সামাদ। আব্দুস সামাদের বাড়ি উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের খামারমুন্দিয়া গ্রামে। প্রায় ৬০ শতক জমির এ ড্রাগনের ক্ষেত থেকে এ বছর যাবতীয় খরচ বাদে তার প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা লাভ আসবে বলে তিনি আশা করছেন। অন্য ফসল চাষের চেয়ে লাভ বেশি। ফলে তার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক এবং বেকার যুবক বানিজ্যিভাবে এই ড্রাগন ফল চাষের মাধ্যমে স্বকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে আসছেন।

[৩] সরেজমিনে আগমুন্দিয়া গ্রামের মাঠের ড্রাগন ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, সিমেন্টের তৈরী চিকন পিলারের সাথে মটর গাড়ির চিকন টায়ারের গোল চাকে বেধ দেয়া হয়েছে ড্রাগন গাছের কান্ডগুলো। এর ওপরে ঝুলে আছে নানা বয়সী ড্রাগন। নজর কাড়ছে সৌন্দর্য্যমন্ডিত ড্রাগন ফুলও।

[৪] কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে মোট ৪’শ ৬০ টি ড্রাগনের চারা পরিচর্যার মাধ্যমে এ বছর ফল ধরতে শুরু করেছে। গত দেড় বছরে তিনি তার বাগানে চারা উৎপাদন, জমি প্রস্তত, কৃষি শ্রমিকসহ সব মিলিয়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার ড্রাগন তিনি বিক্রি করেছেন। আগামী ৬ মাস তার বাগান থেকে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকার ড্রাগন তিনি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। ঠিকমত পরিচর্যা করতে পারলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে একটি বাগান থেকে কমপক্ষে ১৫ বছর ড্রাগন পাওয়া। বছরে ৬ মাস ড্রাগন গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা যায় বলে তিনি জানান।

[৫] কৃষক সামাদ আরো জানান, এখন বেশ কিছু কৃষক ও বেকার যুবক এ এলাকাতে বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। তার দাবি তার হাত ধরেই এ এলাকায় প্রথম বিদেশী ফল ড্রাগনের চাষ শুরু হয়। বেকার ছিলেন তাই ৪ বছর আগে তিনি স্থানীয় একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করতেন। সেখান থেকেই ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। পরে চাকুরি ছেড়ে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। এখন তিনি একজন অন্যতম কৃষি উদ্যেক্তা। তার বাগানে কয়েকজন কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামীতে তিনি আরও কয়েক বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ বাড়াবেন বলে প্রস্ততি নিচ্ছেন।

[৬] ফলচাষী সামাদ আরও জানান, ড্রাগন ফলের চাষ একটি লাভজন চাষ। মাত্র দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই ড্রাগন বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব। তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ উপায়ে কীটনাশক ছাড়াই এই ড্রাগন ফল চাষ করছেন। তিনি বলেন বাংলাদেশে চাষ হওয়া ড্রাগন বিভিন্ন রঙ ও জাতের।

[৭] তিনি লাগিয়েছেন ভিয়েতনামী জাতের ড্রাগন। এ জাতের ড্রাগন ফল পাকলে লাল রক্ত বর্ণের হয়ে যায়। স্বাদও ভালো। ফলে বাজারে এ জাতের ড্রাগন ফলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গাছগুলোতে যখন ফুল আসে তখন অপরুপ দেখা যায়। ফুল ফোটার পর থেকে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। ফল বিক্রেতারা তার বাগানে এসে প্রতিকেজি ২’শ থেকে ৩’শ টাকায় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

[৮] তিনি বলেন, পুষ্টি গুনে ভরা এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে এলাকায় যদি ড্রাগন ফল সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে সারা বছর এই উপজেলা থেকে ড্রাগন ফল সরবরাহ করা সম্ভব হতো।

[৯] কালীগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা এমদাদ হোসেন জানান, যুবক সামাদের ড্রাগন বাগানটিতে এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষি অফিসের তরফ থেকে সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুনে ভরা আর চাষ লাভজনক বলেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন চাষ। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বাধিক পঠিত