প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশিতে বেঁধে নির্যাতন

রায়হান : [২] চকরিয়ার হারবাং এলাকায় গরুর চুরির অপবাদ দিয়ে মা-মেয়েকে অমানষিক নির্যাতন চালিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একদল দূর্বূত্ত। প্রকাশ্যে সড়কে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। পরে সেখানে চেয়ারম্যান নিজেও তাদের আবার প্রহার করে বলে অভিযোগ ওঠে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে প্রতিবাদ নিন্দার ঝড় উঠেছে।

[৩] একপর্যায়ে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

[৪] শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের সীমান্ত চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ছবি প্রকাশের পর শনিবার রাতে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়।

[৪] ওই দুই নারীকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুস্কৃতকারীদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তিনদিন আগে ঘটনা ঘটলেও চেয়ারম্যান ও তার লাঠিয়ালদের ভয়ে কেউ মূখ খোলেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ছবি প্রকাশের পর এটি জানাজানি হয় সর্বত্র।

[৫] চকরিয়া থানার হারবাং তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার স্থানীয়রা ফাঁড়িতে খবর দিলে আমরা ফোর্স পাঠাই। আমাদের ফোর্স গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মা মেয়েকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসি। আমরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির দায়ের করা গরু চুরির মামলায় তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে মা-মেয়েসহ চার জনের বাড়ি পটিয়ার শান্তির হাটে। অপরজনের বাড়ি চকরিয়া লালব্রিজ এলাকায়।

হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তাদের উপর নির্যাতন হয়েছে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ ওদের কেউ করেনি। আমাদের ফোর্স যখন ঘটনাস্থলে যায়, তখন সেখানে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসাটাই প্রাধান্য দিয়েছি। আর ভুক্তভোগী কিংবা অন্য কেউ যদি অভিযোগ করে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

[৬] ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই দুই নারীকে শ্লীলতা হানি করে মাথার ওড়না পর্যন্ত ছিড়ে ফেলে দিয়েছে দুস্কৃতকারীরা। একদফা মা-মেয়ের ওপর নির্যাতন চলার পর হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম চৌকিদার আমিনকে পাঠিয়ে তাদেরকে রশিতে বেঁধে তার কার্যালয়ে এনে আবার নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছেন। উপর্যুপরি নির্যাতন শেষে মা-মেয়ের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন বুঝতে পেরে চেয়ারম্যানের লোকজন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ফোন করে পুলিশ এনে তাদের হাতে মা-মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় তুলে দেয়। হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।

[৭] কক্সবাজারের সমাজ সেবক কলিম উল্লাহ বলেন, এটি কেমন বিচার চেয়ারম্যানের? আমরা এর বিচার চাই। মা- মেয়েকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে জনতার সামনে রশি দিয়ে বেঁধে পেটানোর পর চকরিয়া হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম তার কার্যালয়ে নিয়েও আবারও পেটায় বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম জজ আদালতের আইনজীবি এ্যাডভোকেট এহছান উল্লাহ মানিক জনকণ্ঠকে বলেন, এটা কেমন বিচার? ওই দুই মহিলা চেয়ারম্যানের এলাকার বাসিন্দাও নন। চট্টগ্রামের পটিয়ার দুই ভদ্র নারীকে এভাবে নির্যাতন করে বিচার করার অধিকার চেয়ারম্যান কিভাবে পেল? পুরুষ নয়-মহিলা অর্থাৎ মা মেয়ে এক জেলা থেকে ভিন্ন জেলায় গিয়ে গরু চুরি করতে পারে কি? চুরির অভিযোগে অতীতেও আমাদের দেশে হাজারো কলঙ্কের কালিমা লেপটে দিয়েছে, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। গরু চুরির অভিযোগে এবার মা মেয়ে দুজনকে বেধড়ক মারধর তারপর স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে সেখানে আরও একদফা নিপিড়ন চালানো হয়। এটি প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন এ আইনজীবি।

[৮] উখিয়ার গণমাধ্যমকর্মী শ.ম গফুর বলেন, ধিক্কার জানাই চেয়ারম্যান পরিচয়ী নরপশুর। চকরিয়ার হারবাং ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে যা হয়েছে, এসবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী রইল। গরু চুরির অভিযোগে ব্যাপক মারধর করা, দিনদুপুরে প্রকাশ্য জনসম্মুখে দুইজন নারীকে রশি দিয়ে বেঁধে ঘুরানো হয়েছে প্রচলিত আইন থাকা সত্বে এটি কিভাবে সম্ভব? চকরিয়া হারবাংয়ের সমাজ ব্যবস্থা দেখে আমরা লজ্জিত। সম্পাদনা : হ্যাপি

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত