প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে ‘মৃত্যুকূপে’ ১২৩৫ পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট : মৃত্যুঝুঁকি জেনেও চট্টগ্রাম মহানগরের ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ পাহাড়ের পাদদেশের ‘মৃত্যুকূপে’ বসবাস করছে এক হাজার ২৩৫ পরিবার। বর্ষার আগে প্রতিবছরই তালিকা করে এসব পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু যতক্ষণ উচ্ছেদ ততক্ষণ ‘সবই ঠিক’, এমন নীতিতে চলছে পাহাড়ের বাসিন্দারা। উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলে আবারও আগের জায়গায় বসবাস শুরু করেন তারা। মৃত্যুর ঝুঁকি থাকার পরও সামান্য টাকার লোভে পাহাড়ে বসবাস করার সুযোগ করে দেয় কিছু অসাধু ব্যক্তি। ঝুঁকিপূর্ণ এসব পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা কমার চেয়ে উল্টো বাড়ছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে নতুন ৪০০ পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত বছর জেলা প্রশাসন ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৭ পাহাড়ে অবৈধ ৮৩৫ পরিবারকে চিহ্নিত করে। নতুন করে ৪০০টি পরিবারসহ অবৈধ এক হাজার ২৩৫ পরিবার চিহ্নিত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। চট্টগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে করোনার মধ্যে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পড়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

এ জন্য ‘মৃত্যুঝুঁকি’ নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করা লোকজনকে কয়েকদিন ধরে মাইকিং করেও সরানো যাচ্ছে না। গত এক দশকে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ২০৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের ১৭ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে নতুন করে অবৈধভাবে বসবাসকারী এক হাজার ২৩৫ পরিবারের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। নতুন এই তালিকায় অবৈধভাবে বসবাস করা পাহাড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০০টি পরিবার বসবাস করছে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড়ে। সর্বোচ্চ দ্বিতীয় অবৈধভাবে বসবাসকারী ৩৩৪টি পরিবার রয়েছে ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পাহাড়ে। পাহাড়ে বসবাস বন্ধ করতে প্রশাসন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইন একাধিকবার বিচ্ছিন্ন করলেও পরে আবারও তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। কোনোরকম বাঁশের বেড়া, প্লাস্টিক ছাউনি কিংবা টিন দিয়ে ছোট ছোট বসতঘর তৈরি করা হয়েছে পাহাড়ে। আর সেখানেই গাদাগাদি করে বসবাস করছেন অনেক বাসিন্দা। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৭টি পাহাড়ে অবৈধভাবে এক হাজার ২৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে এসব পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদ করলেও আবারও দখলে নিয়ে বসবাস শুরু করেন বাসিন্দারা। সামান্য টাকার বিনিময়ে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে মানুষদের বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছেন কিছু লোক। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।’ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পর তাতে আবারও বসবাস শুরু করেন তারা। আমরা অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করে সে জায়গা সংশ্নিষ্ট সরকারি সংস্থাকে বুঝিয়ে দিই। তবে তা নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারেন না তারা।’

করোনার মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে ভারি ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আতঙ্কে পড়েছে প্রশাসন। যে কারণে পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে চালাচ্ছে নিয়মিত অভিযান। ১৭টি পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে করা হচ্ছে মাইকিং। প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রও। ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের প্রয়োজনে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার কথা বলছে জেলা প্রশাসন। এক সপ্তাহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার বার্তা দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, ‘পাহাড় রক্ষার দায়িত্বে থাকা সব সরকারি সংস্থা একযোগে দায়িত্ব পালন করছে না। যে কারণে উচ্ছেদ করার পর তা কিছু দিনের মধ্যে আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকলে কোনো সুফল আসবে না। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে না পারলে আগামীতেও ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে।’ সমকাল

সর্বাধিক পঠিত