প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিডে সারাদেশ স্থবির হলেও থেমে থাকেনি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ

আনিস তপন: [২] গত ফেব্রুয়ারি থেকে মহামারি  শুরুর পর মার্চে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। ফলে সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য কার্যক্রমের বন্ধ হয়ে যায় সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও থেমে থাকেনি সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

[৩] লকডাউনে পূর্ণ সচল ছিলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ। কারণ এই বিভাগের আওতাধীন রয়েছে দেশের সব মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষা  ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মত গুরুত্বপূণ সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ আরো কিছু সংস্থা। একারণে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা/অধিদপ্তর/পরিদপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারির উপস্থিতি নগণ্য ও নিয়ন্ত্রিত থাকলেও পূর্ণ জনবল নিয়ে সরকারে স্বাস্থ্যখাতের কর্মযজ্ঞ থমকে থাকেনি। মঙ্গলবার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপে এসব কথা জানান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলীনূর।

[৪] সচিব বলেন, করোনা যে শুধু আমাদের ক্ষতি করেছে তা নয়। সম্ভাবনার অনেকগুলো দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। যেমন, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে অনলাইনে কোনো কাজ করতে অনেকেই দ্বিধা-সঙ্কোচ করতেন। কিন্তু করোনার কারণে সবাই ঘরে আবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রযুক্তির সাহায্যে দাপ্তরিককাজ-কর্ম করতে বাধ্য হয়েছে তারা। কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে টাঙ্গাইল ও সিলেট জেলার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়কে পেপারলেস (নথিবিহীন) ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে কাগজ-পত্রের মাধ্যমে কোনো কাজ হয় না। সব হয়কম্পিউটারে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। খুব শীঘ্রই আরো কিছু এমন কার্যালয়কে নথিবিহীন ঘোষণা করা হবে।

[৫] তিনি বলেন, করোনা দুর্যোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিরামহীন কাজ চলায় এই মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগে প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। তবুও থেমে থাকেনি মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম। এসময় সরকার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানবন্ধ ঘোষণা করলেও এই বিভাগের আওতাধীন মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ থাকেনি।

[৬] স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলীনূর আরও বলেন, এপ্রিল থেকেই মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে শুরু করেছি। ফলে মেডিকেল ও নার্সিংশিক্ষার্থীদের সেশন জট হবে না। এছাড়াও মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনলাইন শিক্ষা,পরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মানসম্মত চিকিৎসক ও নার্সিং সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মে মাসের পরীক্ষা অক্টোবরে ও জুলাইয়ের পরীক্ষা নভেম্বরে নেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। নভেম্বর থেকে রেগুলার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে। যদিও বিষয়টি মহামারির উপর নির্ভর করছে। চুড়ান্ত পরীক্ষায় যারা দু-এক বিষয়ে খারাপ করেছে এমন প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য এব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারা উত্তীর্ণ হলে আগামী সেশনে ইন্টার্ণশীপের জন্য চিকিৎসক তৈরি করা যাবে। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকবে।মেডিকেল শিক্ষা পুরোটাই টেকনিক্যাল বিষয়, ইন্টার্নশীপে (শিক্ষানবীশ) শিক্ষার্থীরা রোগী দেখবে।

[৭] সচিব জানান, অনলাইন ব্যবস্থায় পাঠদান চললেও প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস স্থগিত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই কার্যক্রম শুরু করা হবে। এবিষয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ভাইসচ্যান্সেলরের সঙ্গে, বিএমডিসির সভাপতি, মন্ত্রী, অন্যান্যএ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দু-তিনটি আলোচনা সভাসহ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসাসিয়েশনেরসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা বর্হির্ভুত বিষয় অলনাইনেপাঠদান চলবে এবং প্র্যাকটিক্যাল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষাদান কার্যক্রমেরব্যবস্থা করা হবে। তবে এখন সিম্যুলেশন ল্যাবের উপর ভরসা করতে চাচ্ছি। সকল মেডিকেল কলেজেএই ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষায় বিপ্লব হবে। আগের ব্যাচের চিকিৎসকদের(শিক্ষানবীশ) মেয়াদ শেষ হবার আগেই নতুন শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে। একারণে সরকারতাদের পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু মেডিকেল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে কোনো কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারেরপ্রস্তাবে সম্মতি না দিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

[৮] তিনি আরো বলেন, নার্সিং ক্ষেত্রেও (আইএসটি, ম্যাটস,নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউট) অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমান নার্সিং সেবা দেশে আপ টু দ্যা মার্ক অবস্থানে নেই। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে নার্সিংয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতেবেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে একটি কোরিয়ান কোম্পানি ও বিশ্বব্যাংক। তদের অর্থায়নে নার্সিং প্রশিক্ষণে উচ্চ শিক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর মাধ্যমে এ সেক্টরের গুনগত পরিবর্তন আনতে চাইছে সরকার। স্বাস্থ্যখাতে সমালোচনা এড়াতে ও চিকিৎসক, নার্সদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ কওে তিনি বলেন, এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থার মূলে পরিবর্তন আনতে চাইছে সরকার। যাতে একজন চিকিৎসক বানার্সের মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সৃষ্টি করা যায়। এছাড়াও নার্সিং শিক্ষা পদ্ধতির উন্নয়নেরমাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত ও তা গ্রহণযোগ্য করতে এ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন করাহচ্ছে। এটা হলে মেডিকেল এডুকেশনে বিপ্লব তৈরি হবে। যার অপেক্ষায় আমরা আছি।

সর্বাধিক পঠিত