প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জয় প্রকাশ: অনায়াসেই সুরের নদীতে নৌকায় দুলুনি তৈরি করতেন পণ্ডিত যশরাজ

জয় প্রকাশ: শাস্ত্রীয় সংগীত অতো বুঝি না। কিন্তু নিজের মতো করে কিছু বুঝতে পারি। আমার সবকিছুই নিজের মতো করে বুঝতে হয়। যেমন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত আমার কাছে ভ্রমণের মতো। সুরের ও স্বরের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ। আর ভ্রমণে কোনো ভয় নেই, আনন্দ আছে। তাই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে আমি আনন্দ পাই। আরো ভালো হয় যদি বলি, আবিষ্ট হয়ে ভ্রমণের সুযোগ পাই। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অনুধাবনের মস্তিষ্ক এখনো গড়ে ওঠেনি তবে কান কিছুটা তৈরি হয়েছে। সেই সুবাদেই আমি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গুরুজনদের পরিবেশনা শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকি। কারণ তারা সেই মাঝি, যারা ঢেউ তৈরি করে সুরের নৌকা চালান। যতো বড় পণ্ডিত, ততো বেশি দক্ষতা তার চলনে। তাদের পরিবেশনার সঙ্গে চলতে চলতে সেই ঢেউ, সেই ছন্দ শরীরে ও মনে ছড়িয়ে পড়ে। উনারাই পারেন অনায়াসে নৌকাকে কাত করতে করতে শেষ মুহূর্তে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে আবার ঢেউ এর মাঝে দাঁড় করিয়ে দিতে।
যেমন ভৈরবী রাগে কোমল রিষভ আর গান্ধারের উপরে আয়েশ করে অবস্থান করলে রাগ বিলাসখানি তোড়ির আভাস পাওয়া যায়। আপনি হয়তো ভয়ে, এই বুঝি এক রাগ থেকে অন্য রাগে চলে গেলো, এই বুঝি পা ফসকালো। কিন্তু যারা পণ্ডিত, তারা দারুণ দক্ষতায় আপনাকে পথভ্রষ্ট হওয়ার মুহূর্তে নিয়ে যাবে কিন্তু পথভ্রষ্ট হতে দেবে না। এই যে খেলাটা তারা খেলেন সেটাই তাদের পাণ্ডিত্য। এ কারণেই তারা পণ্ডিত। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবে পণ্ডিত যশরাজের পরিবেশনা সরাসরি উপভোগের সুযোগ হয়েছিলো। মন দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করেছিলাম কীভাবে তিনি সুর নিয়ে খেলেন। টের পেলাম দীর্ঘ অভ্যাসে তিনি অনায়াসেই সুরের নদীতে নৌকায় দুলুনি তৈরি করেন এবং কোমল নিয়ন্ত্রণে আমাদের এদিক সেদিক ঘুরিয়ে আনেন। এই যে নিয়ন্ত্রণ, তাতে কায়িক পরিশ্রমের চাইতে ধ্যানের আবেশ বেশি। তার মহাপ্রয়াণে আমি স্রোতা হিসেবে শোক অনুভব করছি। যদিও জানি তিনি আছেন, সুরের সেতু রেখে গেছেন সাক্ষাত লাভের জন্য। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত