প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে যাওয়া পশ্চিমা কূটনীতিকদের ঢাকা ফেরা অনিশ্চিত

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনা পরিস্থিতির অবনতি এবং টেস্ট ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে পরিবারসহ নিজ নিজ দেশে চলে যাওয়া বিদেশি কূটনীতিকদের স্টেশনে ফেরা অর্থাৎ ঢাকায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাদের ঢাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে স্বশরীরে উপস্থিতির ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ঢাকাস্থ অর্ধশতাধিক কূটনৈতিক মিশনের প্রায় শতাধিক কূটনীতিক পরিবার নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন। অনেকে তাদের পোষা প্রাণীটাও পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে গেছেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধারণা দেয়া হয়েছিল যে ঢাকার পরিস্থিতির উন্নতি হলেই তারা ফিরবেন। কোনো কোনো মিশন দেশে যাওয়া তাদের কূটনীতিকদের অক্টোবর নাগাদ ফেরার চিন্তা করতে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু না, সামপ্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সেই নির্দেশনা স্থগিত করা হয়েছে বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আপাতত না ফিরতে বলা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের তরফে কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারত, ভুটান এবং আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা সব কূটনীতিকদের এই মুহূর্তে স্টেশনে না ফিরতে বলা হয়েছে।

শুধু কূটনীতিক নয়, সাধারণ নাগরিকদেরও উপরোল্লিখিত ৩ দেশ সফরে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এ নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট লেভেল ফোর ট্রাভেল এডভাইজারি বা রেড এলার্ট জারি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে গত ৬ই আগস্ট বৈশ্বিক ট্রাভেল এডভাইজারি বা ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ছাড়াও ক্রাইম রেট, সন্ত্রাসের ঝুঁকি, দেশগুলোর বিভিন্ন গোষ্ঠীর বা দলের অভ্যন্তরীণ বা উপদলীয় কোন্দল এবং বিদেশিদের অপহরণের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে পেটি ক্রাইম, সন্ত্রাসবাদ এবং অপহরণের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে এবং সতর্কতার মাত্রা বা লেভেলে পরিবর্তন অর্থাৎ উচ্চ সতর্কতা অবলম্বনে নাগরিকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নোটিশে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো এটা নিশ্চিত করেছে যে, পশ্চিমা দুনিয়া ঢাকার করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশ এখনো বাংলাদেশ সফরে তাদের কূটনীতিক বা নাগরিকদের সরাসরি বারণ করেনি বা এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশ জারি করেনি। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের জারি করা ‘ডোন্ট ট্র্যাভেল টু বাংলাদেশ ডিউ টু কোভিড-১৯ এবং এক্সারসাইজ ইনক্রিজড কশন ইন বাংলাদেশ ডিউ টু ক্রাইম, টেরোরিজম অ্যান্ড কিডনাপিং’ শীর্ষক সর্বশেষ সতর্কবার্তাটির বিষয়ে পশ্চিমা দুনিয়ার প্রতিনিধিরা সচেতন রয়েছেন।

এক প্রতিনিধি কাল টেলিফোন আলাপে বলেন, ঢাকায় ভারত ও চীনের মিশনের কার্যক্রম বরাবরই অন্যদের চেয়ে আলাদা ও স্বতন্ত্র। লাদাখ সীমান্ত ইস্যুতে বিরোধী অবস্থানে থাকা দেশ দুটির ঢাকা মিশন করোনাকালেও প্রায় স্বাভাবিকই ছিল। চীন দূতাবাস তো আরো আগে থেকেই করোনা নিয়ে সক্রিয় ছিল। তবে অন্যরা যে করোনার বিস্তার প্রশ্নে উদ্বেগের মধ্যে ছিল তা সহজেই অনুমেয়।

ওই কূটনীতিক বলেন, সরকার কূটনীতিকদের অভয় দেয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি স্বস্তিকর ছিল না। টেস্ট জটিলতা ছিল শুরু থেকেই। চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগ ছিল, যদিও সরকার আমাদের জন্য ডেজিগনেটেড হাসপাতালে সিট সংরক্ষণের সুবিধা দিয়েছিল।

তার মতে, সেই উদ্বেগ এখনো কাটেনি। পরিস্থিতির উন্নতিও দৃশ্যমান নয়। ফলে স্পেশাল ফ্লাইটযোগে দেশে ফেরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন, জাপান, কোরিয়া ও ভুটান এবং নরওয়ের কূটনীতিক-স্টাফদের সহ অন্যদের সহসাই ফেরার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বরং তাদের চলতি বছরে ফেরা অনেকটাই অনিশ্চিত বলা যায়।মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত