প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নবনীতা চৌধুরী: চিরবন্ধু, চিরনির্ভর-বঙ্গবন্ধু

নবনীতা চৌধুরী: বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার রেকর্ড শোনার সুযোগ পাওয়ার অনেক আগে আমার ৭-৮ বছর বয়সে আমি ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত দেখি। আর রক্তমাখা সিঁড়ির দেওয়ালে টানিয়ে রাখা একটা ছবিতে দেখি গুলিতে ঝাঁঝড়া বঙ্গবন্ধু পড়ে আছেন ওই সিঁড়িতে। কেন বঙ্গবন্ধুকে পৃথিবীর নৃশংসতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে পরিবার, স্বজন, সহচরসহ মেরে ফেলার দরকার হয়? এই কেন’র উত্তর খুঁজে যাওয়াই আমার চোখে বঙ্গবন্ধুকে খোঁজা। ৮০-৯০ এর দশকে যখন আমার জন্ম আর বেড়ে ওঠা সে সময় সামরিক উর্দি আর বিজাতীয় পোশাক পরা শাসকেরা রাজপোশাক, রাজধর্ম, রাজকবি, রাজ সংস্কৃতি চালু করতে ব্যস্ত। মুক্তিযুদ্ধ তাদের কাছে ‘গন্ডগোল’ আর মুজিব হত্যার বর্ণনা ‘মিষ্টি খাওয়ার উপলক্ষ’। চাষাদের, মুটেদের, মজুরের এক সমাজ কিনা তাদের ভাষা আর সংস্কৃতির ঐক্যে বলিয়ান হয়ে, মধুমতি পারের খোকাকে নেতা হিসেবে পেয়ে বিশ্বের বুকে এমন এক মহান দেশ সৃষ্টি করলো, যে দেশে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, গোষ্ঠী বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না?
সে কারণেই কি রাতের অন্ধকারে সেই খুন প্রয়োজন হয়ে পড়লো? এতোদিনে বঙ্গবন্ধুর অসংখ্য রেকর্ডিং শুনেছি, দেখেছি। এসব যখন ভাবি, তখন তাই শুনি, বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কণ্ঠ খাদে এনে যেন আমার কানে কানে বলছেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ’। আমি বঙ্গবন্ধুকে নালিশের সুরে বলি, একাত্তরে ধর্ষণের শিকার নারীকে আপনি ঠিকানা দিয়েছিলেন ৩২ নম্বর, কিন্তু, স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরে এসে আজ ঘরের দরজা খুলে দিলে দেখতেন তিন থেকে ৭৩ এর নারীদের ভীড়। আমি তখন বজ্রকন্ঠে শুনি, ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারিÑএবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। সেই ৮০-৯০-এর দশকে দেওয়ালে লেখা থাকতো, ‘এক মুজিব লোকান্তরে লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে’। বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছরে এসে আমরা জানি, বই থেকে মুছে, মন থেকে মুজিবকে মোছা যায় না। আমার ৫ পেরোনো মেয়েকে খেলা ফেলে খাওয়া, ঘুম, পড়া যেকোনো কাজ করতে বললেই সে টিভিতে দেখা বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার সূত্র ধরে চোখ পাকিয়ে বলতো, ‘দেখো বঙ্গবন্ধুও কিন্তু বলেছে, বাংলার মানুষ হাসবে আর খেলবে’। এখন যার যার সুবিধামত বঙ্গবন্ধুকে ব্যাখ্যা চলছে বটে কিন্তু নারী পুরুষ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ‘বাংলার মানুষ হাসবে, বাংলার মানুষ খেলবে, বাংলার মানুষ মুক্ত হয়ে বাস করবে, বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে- এই আমার সাধনা’ আর স্বপ্ন যাদের, প্রজন্মান্তরে তাদের জন্যে ‘আমার নেতা, তোমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’। বঙ্গবন্ধু তাই আমার বন্ধুও বটে। ‘চিরবন্ধু, চিরনির্ভর, চিরশান্তি’। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত