প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষিবিদ মো. বশিরুল ইসলাম: বঙ্গবন্ধুরই চিন্তার ধারাবাহিকতায় কৃষিতে সাফল্য

কৃষিবিদ মো. বশিরুল ইসলাম: স্বাধীনতার পর প্রথম অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন খাতে যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তার ১০০ কোটি দেওয়া হয়েছিল কৃষিতে। আর প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষি ও গবেষণা খাতে ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এটা ওই সময়ের জন্য অনেক বড় বরাদ্দ নিঃসন্দেহে। বাজেটে ভর্তুকি দিয়ে বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও আনুষঙ্গিক উপকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ সুবিধা সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। ফলে কৃষি উৎপাদন অতীতের যেকোনো সময় থেকে অনেক বেশি উৎপাদিত হয়েছিল। গরিব কৃষকদের বাঁচানোর স্বার্থে সুবিধাজনক নিম্নমূল্যের রেশন সুবিধা তাদের আয়ত্বে নিয়ে আসেন।

বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ধান, পাট, তামাক ও আখসহ প্রধান প্রধান কৃষিপণ্যের সর্বনিম্ন বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে ৮ মাসে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প পূর্ণ উদ্যোমে চালুর ব্যবস্থা করেন। তার সরকার সরকারিভাবে খাদ্য মজুতের জন্য ১৯৭২ সালের মধ্যে ১শ গোডাউন নির্মাণ করে। দেশে প্রবর্তন করা হয় কৃষিঋণ ব্যবস্থার এবং ৭৩ এর ৭ নম্বর অ্যাক্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয় কৃষি ব্যাংক।

১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-১৩৫ এ বঙ্গবন্ধুর কৃষি সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, আর তা হলো : এতে নদী কিংবা সাগরগর্ভে জেগে ওঠা চর জমির মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থার বিধান। মহাজন ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে গরিব কৃষকদের রক্ষাই উদ্দেশ্য ছিল তার। সে কারণে হাট বাজারে ইজারা প্রথার বিলোপ করেন। এক্ষেত্রে তিনি কৃষিজপণ্যের ক্ষুদে বিক্রেতাদের শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে বিদ্যমান সমবায় সমিতি ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২ সালে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিস্তর বিশিষ্ট সমবায় ব্যবস্থা চালু করেন।

কৃষির উন্নয়নে কৃষক, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উৎসাহ প্রদানে জাতীয় পর্যায়ে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকের’ প্রবর্তন করা হয়। টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণাসহ কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী, ইক্ষু গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং পুনর্গঠন করেন। কৃষিতে নতুন নতুন জাত উপহার দেওয়া বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিনা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই যাত্রা করে। কৃষির আধুনিকায়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর অধিক জোর দিতেন বঙ্গবন্ধু। একজন কৃষিবিদ হিসেবে আমি মনেকরি, বঙ্গবন্ধু অসম্ভব রকম দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এক নেতা ছিলেন বলে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন- কৃষক ও কৃষির উন্নয়ন ছাড়া এ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার সব কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গোটা বিশ্বের বুকে মর্যাদা ও সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠা করা। বঙ্গবন্ধু আধুনিক ও উন্নত কৃষির প্রয়াসে কৃষি শিক্ষায় মেধাবীদের চাকরিতে আকৃষ্ট করে উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে, কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদান করেন। তার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে দেশের মেধাবী সন্তানগণ আগ্রহী হয় কৃষি পেশায়।

আজ কৃষিতে আমাদের যে অনন্য সাফল্য, তা বঙ্গবন্ধুরই চিন্তার ধারাবাহিকতা। তার চিন্তাকে তারই কন্যা শেখ হাসিনা সুনিপুণভাবে বাস্তবায়ন করতে সমর্থ হয়েছেন।

লেখক : জনসংযোগ কর্মকর্তা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। [email protected]

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত