প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাহাঙ্গীর হত্যা: সুদের টাকা লেনদেনেই খুন

সুজন কৈরী: [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলোচিত জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঘটনা জড়িত ও মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মোতালেবকে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে মোতালেব ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

[৩] সংস্থাটি জনায়, চলতি বছরের ১৫ মে রাতে বাড্ডা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কাদৈর বিলে রাস্তার পাশে নির্জন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখমন্ডলে উপর্যুপরি আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে তারই ঘনিষ্ট সহচর মোতালেব। ঘটনার পরদিন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বাদী হয়ে মোতালেবের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭ তেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় মামলা (নং-১৪) করেন। থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় আসামি মোতালেবকে গ্রেপ্তার করে ৩ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলে পাঠান।

[৪] হত্যাকান্ডটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত ২৪ জুলাই পিবিআইর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয় তদন্তভার গ্রহণ করে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. মাসুদ পারভেজ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় নিশ্চিত হয়ে জেলে থাকা মোতালেবকে ২ দিনের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে মোতালেব স্বীকার করেন, সুদের টাকার লেনদেনের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীরকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন তিনি।

[৫] পিবিআইর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মোতালেবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জাহাঙ্গীর তার ঘনিষ্ট সহচর। জাহাঙ্গীর নিজ এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন লোকের কাছে চড়া সুদে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। টাকা বিনিয়োগ ও আদায়ের ক্ষেত্রে মোতালেব মধ্যস্থতা করতেন। বিনিময়ে তিনি সুদের একটা অংশ পেতেন। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীরের বেশ কিছু টাকা উত্তোলন করতে সমস্যা হওয়ায় মোতালেবকে দোষারোপ করতে থাকেন এবং লোকজনের সামনে গালমন্দ ও অপমান অপদস্থ করেন। ঘটনার ৭ থেকে ৮ দিন আগে মোতালেব তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের জন্য বাজার থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে একটি রুই মাছ কেনে বাড়িতে যাওয়ার পথে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা হয়। জাহাঙ্গীর তাকে সুদের টাকা উত্তোলন না করার কারনে গালমন্দ করেন এবং তার হাত থেকে রুই মাছটি ছিনিয়ে নেন। মেয়ের জন্য কেনা মাছ ছিনিয়ে নেয়া এবং আগের গালিগালাজ ও লোকজনের সামনে অপমান করায় জাহাঙ্গীরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোতালেব। সেইসঙ্গে বিষয়টি জাহাঙ্গীরের বিরোধী কতিপয় লোকজনকে পরিকল্পনার কথা জানালে তারা তাকে সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

[৬] পরিকল্পনা অনুযায়ী মোতালেব নারীর লোভ দেখিয়ে ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কি.মি. দূরে নির্জন স্থানে নিয়ে সুযোগ বুঝে ধারালো ছুরি দিয়ে জাহাঙ্গীরের মুখমন্ডলে উপর্যুপুরি আঘাত করেন এবং ছুরির বাট ভেঙ্গে যাওয়ার পর তার হাতে থাকা ষ্টীলের তৈরি টর্চ লাইট দিয়ে মুখমন্ডলসহ মাথায় আঘাত করেন। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর মাটিতে পড়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে মোতালেব বিলের মধ্য দিয়ে দৌড়ে তার বাড়িতে চলে যান।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত