প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইশতিয়াক আহমেদ জয়: সজীব ওয়াজেদ আপনার সঙ্গে বাঙালির জড়িয়ে থাকা ভালোবাসার গল্পগুলো ক্রমশ দীর্ঘ হোক

ইশতিয়াক আহমেদ জয়: করতালিহীন কল্যাণের পথ ধরে দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি। এই যাত্রাপথে নেই জনতার সম্মিলিত জয়ধ্বনি, আছে এক পবিত্র পরিতৃপ্তি। জরুরি এই যাত্রা ৭ মার্চের সেই বলিষ্ঠ উচ্চারণের মতো অহংকার ‘কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারবে না’। আমি বলছি সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথা। যার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের এক অনন্য বাহন হয়ে রয়েছে। ১৯৭১ সালে চলছে গণহত্যা, নির্যাতিতের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবর রহমানকে জেলে নিয়ে চলছিলো ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার কুকল্পনা। যখন সন্তানের জন্মযন্ত্রণায় রক্তাক্ত, কাতর ‘মা মাটি’- ঠিক একই রকম কাতরতা সে সময় আরেকজন মায়ের। ‘মুজিবকন্যা’ শুধু এই অপরাধে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর সন্তানসম্ভবা শেখ হাসিনার চিকিৎসা কাজে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রতিটি পদে পদে বাঁধা সৃষ্টি করতে থাকে। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা ওষুধ কেনা সব বন্ধ। মা, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেয়ের কাছ থাকতে চাইলে জবাব এসেছিলো, ‘আপনি কি নার্স যে মেয়ের কাছে থাকবেন’? এই ঘটনাটা জানা যায় বঙ্গবন্ধুর জামাতা প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থে। যারা বাংলাদেশের জন্মে বুলেট তাক করেছিল, জয় জন্মেও জঘন্যতার হাঁসি ছিলো একই রকম। বাংলাদেশ এবং জয় জন্মসূত্রে সময়বয়সী। এরপর আসলো অনাকাক্সিক্ষত ৭৫। চার বছর বয়সী শিশু বাংলাদেশকে এতিম করা হলো বঙ্গবন্ধুকে বুলেটে বিঁধে, প্রাণে বাঁচেনি পরিবারের অন্যরাও। কিন্তু রক্ত দিয়ে যে ইতিহাস লেখা হয় সে ইতিহাসে সত্য শব্দগুলো একদিন তো উচ্চারিত হবেই।

জার্মানিতে বেঁচে রইলেন পিতার দুই কন্যা হাসিনা-রেহেনা। বাংলাদেশ এতিম, দুই বোনও এতিম। গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশ শৈশব শিখে ওঠার আগেই শিখে গেল সৎকার। জয় তখন জার্মানিতে এক যুদ্ধ না বোঝা উচ্ছল শৈশব। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা ফিরে এলেন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে। বাংলাদেশ তখন বুলেটবিদ্ধ শৈশব ক্ষতে সদ্য কিশোর। হাসিনা বুঝেছিলেন পুরোপুরি চিকিৎসা না দিলে মৃত্যু অনিবার্য। এরপর ১৫ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে মা যখন রাজপথের সাহসী উচ্চারণ, তখন জয় বইয়ের পাতায়। মানুষের ইতিহাসে শৈশব-কৈশোরে মায়ের একান্ত উপস্থিতি না পেলে সন্তান বখে যায়, কিছু ক্ষেত্রে মা থাকলেও বখে যাওয়ার নজির বিগত সরকারের দিকে তাকালেও দেখা যায়। কিন্তু জয় বেঁচেছেন বিশ্বায়নের দিনে সাল সূত্রে সহোদর বাংলাদেশকে হাত ধরে রাস্তা পাড় করবেন বলে। এরপর এলো ১৯৯৬। মুজিবকন্যাকে বেঁছে নিলো বাংলাদেশের জনগণ। এরপরের ইতিহাস তো জানিই। এরপর ২০০১-এর নির্বাচনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে স্বাধীনতার শরীরে শেষ কালিমা লেপনের প্রচেষ্টা। ক্ষমতায় আসলো বিএনপি-জামায়াত। রাজাকারের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকায় আরও একবার তীব্র দীর্ঘশ্বাস। এই সময়ে বেশ কয়েকবার উচ্চারিত হয়েছিলেন মুজিব দৌহিত্র জয়। খালেদাপুত্র তারেক তখন দেশের অঘোষিত রাষ্ট্রনায়ক। ইয়াবা আনল, সন্ত্রাসের আধুনিকায়ন করলো-এমনকি মুজিবকন্যার সমাবেশে গ্রেনেডও মারলো। তার বিপরীতে অন্য নেত্রীর পুত্রটি কোথায়, এমন প্রশ্ন সাধারণের জেগেছে কয়েকবার। তৃণমূল কর্মীরা জয়ের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে না নামলেও, উপস্থিতির স্বপ্ন দেখতেন না তেমনটা বোধহয় না। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি নতুন শব্দ যোগ হলো, ‘ডিজিটাল’।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। এবার এজেন্ডা দুটো, স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ। কিন্তু এতো কিছুর ভেতরে জয় কোথায়? বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না? হ্যাঁ তাকে রাজপথে বিপ্লবী স্লোগানে দেখা যায়নি, কিন্তু উন্নয়ন বিপ্লবের বীজ বপনে মগ্ন ছিলেন। সমবয়সী অন্যরা যখন অর্থ পাচারসহ যাবতীয় অন্যায়ে মগ্ন জয় তখন আধুনিক বাংলাদেশ, আধুনিক কৃষি, অর্থনীতি, সমাজনীতি নিয়ে ভাবছেন। ঘরে ঘরে ইন্টারনেট সমস্ত দূরত্বকে দিনশেষে মিলিয়ে দিলো। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিণত এক প্রাণ হয়ে হেঁটে যাচ্ছে, যার ড্রিম ডিজাইনার সাল সূত্রে সহোদর সজীব ওয়াজেদ জয়। এরপরেও এক শ্রেণির মানুষ স্বাপ্নিক এই তরুণের পদক্ষেপে টিটকারি দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। ডিজিটাল শব্দটি নিয়ে নানাবিধ ব্যঙ্গ হয়েছে। অথচ কিন্তু দমে যাননি জয়। আজকের দিন পর্যন্তও পরিকল্পনায় ও প্রস্তুতিতে কাটছে তার সময়, আর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বাংলাদেশ। আর অন্যদিকে অন্যায়ের সমস্ত কাঠামোগুলো যত্নে-যুদ্ধে সাড়িয়ে তুলছেন মুজিব কন্যা, বাংলাদেশের হাসিনা।
লেখক : সভাপরি কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত