প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুন্নী সাহা: স্ট্রাগল করে ‘অ্যাচিভ’ করার দর্শনের নামই বোধহয়, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’

মুন্নী সাহা: ম্যানহাটনের একটা পাঁচতারা হোটেলে চলছিলো অনুষ্ঠানটি। আউট সোর্সিং নিয়ে। আইটি সেক্টরের গ্লোবাল জায়ান্টদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত। বাংলাদেশের তরুণরা এ সেক্টরে কতোটা এগিয়েছে, বাংলাদেশই ইনভেস্টমেন্টের নেক্সট ডেস্টিনেশন, তা নিয়ে গ্লোবাল জায়ান্টদের সামনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে। সালটা সম্ভবত ২০১০। তখনো তাকে ঘিরে গ্লোগানবাজদের সেই রকম কাড়াকাড়ি, বাড়াবাড়ি শুরু হয়নি। লক্ষ্য করলাম মুহুর্মুহু হাততালি। সব সফটওয়্যার জায়ান্টরা। প্রশ্নোত্তর পর্বটিতে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আনীর চৌধুরী কী দারুণ। কী চৌকষ। রিপোর্টার হিসেবে ডাটা সফটের আমন্ত্রণে আমি সেই ইভেন্ট কাভার করছিলাম। গর্বে আমার চোখে জল। টি ব্রেকে আনীর চৌধুরীর সঙ্গে পরিচিত হলাম, সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটা ছোট্ট সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য সাহায্য চাইলাম। আনীর ভাই বললেন, ‘যান না আপনি, গিয়েই বলুনÑ নিউজের জন্য সাক্ষাৎকার চান। উনি ভীষণ অমায়িক- খুশি হবেন।’ তিন হাত দূরত্বেই বসে ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা- ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্টটি যিনি নির্বাচনী ইশতেহারে ঢুকিয়েছিলেন। সালাম দিয়ে বললাম, ‘জয় ভাই, একটুখানি আমার ক্যামেরার সামনে বলতে হবে, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য’। বললেন, কোথায় আপনার ক্যামেরাম্যান? ব্যাকপ্যাকটা দেখিয়ে বললামÑ আমিই। হেসে বললেন, ‘বাব্বা, একাই? আচ্ছা, লাঞ্চের সময় কথা বলবো’।

সেমিনারের লাঞ্চ টাইমে আমি খানিকটা লেথুর ভঙ্গিতে এদিক সেদিক ঘুরে এর-ওর ইন্টারভিউ করে বেড়াচ্ছি। দূরে দেখছি, ভিভিআইপিদের সঙ্গে কথা বলছেন সজীব ওয়াজেদ, আবার তাড়াহুড়োয় একটু খাচ্ছেনও। সেমিনারে লাঞ্চের পরে তো কোনো সেশন নেই, আর প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তো ভার্জিনিয়াতেই থাকেন তার লাম্বারগিনি বা লিমুজিনে উঠলেই তো শা- করে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে এতো তাড়া কীসের? এই সব সাতপাঁচ ভেবে, ক্যামেরা- মাইক্রোফোন রেডি করে, আইসিটি উপদেষ্টার কাছে যেতেই, তিনি বললেন, ‘কই ছিলেন? আমার তো ট্রেন ধরতে হবে। আমি কথা বললে, ট্রেন মিস করবো, বাড়ি যাবো ক্যামনে’? আমি অবাক। বলেই ফেললাম, আপনি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, আপনি বাড়ি ফিরবেন ক্যামনে চিন্তা করছেন? ট্রেন ধরতে হবে বলে দৌঁড়াচ্ছেন। আমি তো ভেবেছি, গাদা গাদা মার্সিডিজ, ফেরারী নিয়ে কার র‌্যালি করে আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব অপেক্ষা করছে। জয় এর মুখে সারল্যের হাসি ‘Oh my GOD! প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হলে কী এসবও হয় নাকি?’ (একটু কৌতুকের সুরে বললেন।) কিন্তু আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, মানে আমার মা তো খালি আমাদের স্ট্রাগল করে, অ্যাচিভ করতে শিখিয়েছেন কী হবে আমার’। লম্বা লম্বা পা ফেলে পাঁচতারা হোটেলের লিফটের দিকে এগোতে এগোতেই ৫ মিনিট আমার ক্যামেরায় কথা বললেন, বাংলাদেশের ইনফো-টেক তরুণদের নিয়ে, তার প্রত্যাশা এবং এদেশের সফট-টেক জায়ান্ট হওয়ার সম্ভাবনার কথা। আমার ক্যামেরার ভিডিও- অডিওর মেমোরি যাই-ই ধারণ করুক না কেন, আমার মেমোরিতে সেই আলাভোলা, সাদামাটা ভঙ্গিতে এক চিমটি কৌতুক মিশিয়ে, মায়ের শিক্ষাটার কথা রেকর্ড হয়ে রইলো। এরপর যতোবার দেখা হয়েছে, যতোবার দেখেছি সজীব ওয়াজেদ জয়কে, সেই মায়ের শিক্ষার লেবেলটা গায়ে মোড়ানোই দেখেছি। স্ট্রাগল করে এ্যাচিভ করার দর্শনের নামই বোধহয়, ‘জয়’। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত