প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবেদা সুলতানা: পেন্ডামিকের প্যানপ্যানানি

আবেদা সুলতানা:  (১) মানুষ কিন্তু যন্ত্র নয় এটা যেমন সত্য তেমনি মানুষের শরীর একটা যন্ত্র বিশেষ এটাও সত্য। বিচিত্র বিষয় মানুষকে ভাবায়। ভাবায় কারণ বিষয়টি মনে দাগ কাটে নেতিবাচক। ইতিবাচক কিছু ঘটলে ভাবনা আসে না, আসে প্রশান্তি। তখন শরীরে এর সুখানাভুতি ছড়িয়ে পড়ে।
তো ভাবনা আবার রোগ বিশেষ!
আবেগী মানুষ ও কঠিন প্র‍্যাকটিক্যাল মানুষরা ভাবনা রোগে বেশি আক্রান্ত হন। আমি দুই ক্যাটাগরিতেই শীর্ষে অবস্থান করছি। তবে আমরা ভাবনায় ডালপালা বাড়তে পারে না। সেজন্য নির্মুল না করতে পারলেও আপাতত দূর করতে চেষ্টা করি নিজের মতো করে।
আজ তেমনি একটা কাজ করে ফেললাম সকাল সকাল।
কাপুরষরা বারবার মরে।

(২) আচ্ছা কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়া কী সামাজিক কোন পাপ? রোগ মুক্তির পরও কী আক্রান্ত মানুষ অচ্ছুৎ? তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ( আক্রান্ত নয় বা সুস্থ হয়ে গেছেন) জন্যও কী একই বিচার?

অনেক অনেক আগে কুষ্ঠ রোগীদের রেখে আসা হতো দূর জনমানবহীন এলাকায়। তাঁরা কোন দিন ফিরতে পারতো নিজ সন্তান,স্বজনের কাছে।
সময় বদলিয়েছে, ঔষধ এসেছে, রোগ মুক্তি ঘটেছে। আমরা মানবিক হয়েছি। এখন আমাদের সাথেই মানে পরিবারেই থাকতে পারেন কুষ্ঠাক্রান্ত রোগীরা। চিকিৎসা নিতে পারেন।

আমরা এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্তদেরও ঠেলে সরিয়ে দেইনি। নিজেদের সচেতন করেছি, সাবধান হয়েছি।

(৩) কিন্তু করোনা?
আপন তেজে জ্বলজ্বল মান!
তা তেজ শুধু দুই ক্যাটাগরির লোকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ !
এক. শিক্ষিত ও সামর্থবানদের ক্ষেত্রে,
দুই. ভীতুদের ক্ষেত্রে।

এই শ্রেণি হাঁচি কাশির শব্দে চমকে উঠে। সামান্য জ্বর এলে মুখ পাংশু বর্ণ হয়। আর তরকারিতে লবণ কম হলে গন্ধ নিতে পারফিউমের বোতল খালি করে।
এরা কলিং বেলের আওয়াজে ঘরে পাক মিলিটারি ঢুকে পড়ার খোয়াব দেখে মূর্চ্ছা যায়।

আমি উপরে বর্ণিত ক্যাটাগরিতেই আছি।

তবে করোনা আক্রান্ত রোগীকে রোগ বিষয়ে পরামর্শ, সান্ত্বনা, মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করানোর সাথে নিয়মিত খোঁজ খবর করতে চেষ্টা করি। আর করোনা জয়ীকে বাহবা দেই। স্বাগত জানাই।

(৪) আমাদের সহকর্মীদের ক’য়েকজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ( আমার জানা)। এরমধ্যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে একটা পরিবারে। বাকিরা সবাই সেরে উঠেছেন। একজনের কভিড-১৯ পজিটিভ তিনি জানিয়েছেন কাউকে না জানানোর শর্তে।

কেন এই লুকোচুরি?
কারণ আমাদের সমাজ!
আমরা কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীকে তো বটেই তাঁর পরিবারকেও একঘরে করে দেই। শারীরিক ভাবে এর অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। মানসিকভাবে এই কাজটি এক্কেবারেই অমানবিক। আমরা যদি আক্রান্তের পরিবারের পাশে মানষিকভাবেও না থাকতে পারি তবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সেবাকর্মীদের কাছে সেবা আশা করাও ঠিক না। কারণ প্রত্যেকেরই জীবনের মায়া আছে। এই দেশ এখনো কল্যাণ রাষ্ট্রের ভূমিকায় যেতে পারেনি। (এর কারণ বহুবিধ। ডিবেট হতে পারে।)
আর এই জন্যই আমাদের রক্ষা করতে হয় নিজেদেরই। আর লুকিয়ে রাখতে হয় অসুখের কথা।

(৫)কভিড-১৯ একটি আতঙ্কের নাম বিশ্বজুড়েই।
এই সময় অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হলে ( হার্ট এটাক / স্ট্রোক / সড়ক বা অন্য দুর্ঘটনা) বা দীর্ঘ দিনের বহন করা রোগীদের জন্য এই সময়টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আর হতাশাজনকও বটে। ব্যক্তি নিরাপত্তার খাতিরে চিকিৎসকরা প্রাকটিস বন্ধ করে দিয়েছেন। আর হাসপাতালগুলো সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

(৬) হ্যাঁ, এখন আমাদের একমাত্র ভরসা টেলিমেডিসিন।
বিকল্প আর কোন পথ সাধারণ রোগীর জানা নাই।
তবে টেলিমেডিসিনে পুরানো জটিল রোগের রোগীদের সমস্যা দূর করা বেশ কষ্টকর।

এছাড়া টেলিফোনে ডাক্তার দেখতে হলে বা সাজেশন নিতে হলে অনেক যন্ত্র রোগীর বাসায় রাখতে হয়। সাথে অপারেট করাও শিখে নিতে হয়! ডাক্তার জানতে চাইবেন প্রেসার কত? ডায়াবেটিস কত? তাপমাত্রা কত? ওজন কত? বিভিন্ন পরীক্ষা যা ল্যাব থেকে করিয়ে নিয়েছি তার রেজাল্ট কী? ইত্যাদি ইত্যাদি!

আর হ্যাঁ সবার আগে ১৪০০ টাকা বিকাশ করতে হবে!

(৭) কয়দিন আগে অনলাইন বুয়াকে নিয়ে একটি কৌতুক সারাদিন ইনবক্সে দৌড়ে বেড়িয়েছে। পাঠকরা জানেন তাই আর বলছি না। সেই বুয়ার স্মার্টনেসের কাছে গৃহিণী ছিলেন কিংকর্তব্যবিমুঢ়।
এই টেলিমেডিসিনে রোগী!

(৮) সর্বশেষ, ডাক্তারের কাছে যাবার আশায় গতকাল কভিড-১৯ টেস্ট করিয়েছি আইসিডিডিআরবি তে। আজ সকালে ই-মেইলে নেগেটিভ রেজাল্ট পেলাম।

এই টেস্ট করিয়েছি শুধুমাত্র ডাক্তার দেখানোর আশায়!

ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত