প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩৩ বছরেও অক্ষত দেশের সবচেয়ে বড় ১০৮ কক্ষের মাটির প্রাসাদ

সাজিয়া আক্তার : মাটির ঘর হচ্ছে গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া-ঘেরা শান্তির নীড়। এক সময় গ্রামের বিত্তশালীরা অনেক টাকা ব্যয় করে মাটির বাড়ি তৈরি করতেন। তবে ইট, বালি ও সিমেন্টের এ আধুনিকতায় মাটির বাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

সময়ের সঙ্গে মাটির বাড়ির প্রচলন হারিয়ে গেলেও নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ৩৩ বছর আগে তৈরি করা ১০৮ কক্ষের মাটির তৈরি বিশাল বাড়িটি। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির এই বাড়িটি দেখতে আসছে দর্শনার্থীরা।

১৯৮৬-৮৭ সালে এ গ্রামের সম্পদশালী সহোদর সমশের আলী মণ্ডল ও তাহের আলী মণ্ডল প্রায় নয় মাস সময় নিয়ে ১০৮ কক্ষবিশিষ্ট মাটির দ্বিতল ঘর তৈরি করেন।৩৩ বছর আগে ৩ বিঘা জমির উপর মাটির এই দোতলা বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন তারা। বিশাল এই বাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩০০ ফিট এবং প্রস্থ ১০০ ফিট। বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৮০ জন কারিগর দিয়ে বাড়িটি সম্পূর্ণ করেন। এ বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। আর ছাউনির জন্য টিন লেগেছে ২শ’ বান্ডিল। সে সময় দোকানদার খুশি হয়ে দুই ভাইকে একটি সাইকেল উপহার দিয়েছিলেন। বাড়িসহ আশপাশের জমি রয়েছে প্রায় ২১ বিঘা। বাড়িটির সৌন্দর্য বাড়াতে চুন ও আলকাতরার প্রলেপ দেয়া হয়েছে। মাটির এই বাড়িটি দেখতে অনেকটা প্রাসাদের মতো। বাড়িটির নাম ‘মণ্ডল ভিলা’ হলেও বর্তমানে ‘নওগাঁর মাটির প্রাসাদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

বিশাল এই বাড়িতে প্রবেশের দরজা রয়েছে ১১টি। তবে প্রতিটি ঘরে রয়েছে একাধিক দরজা। দোতলায় উঠার সিঁড়ি রয়েছে ১৩টি। বর্তমানে বাড়ির শেষ অংশে ইট দিয়ে কিছু আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে আগের মতো বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আর সব ঘর দেখা যায় না এবং সব ঘরেও প্রবেশ করা যায় না। বিশাল এই বাড়িতে ছোট-বড় সবাই মিলে বর্তমানে ৪০ জন মানুষ বসবাস করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত