প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বেচ্ছায় দেয়া প্লাজমা সংগ্রহের পর অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতেন ফরিদ!

সুজন কৈরী : [২] কোভিড জয়ীদের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করার সময় আহসানুল ফরিদ নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি প্লাজমার ব্যবসার জন্য ফেসবুকে একটি পেজ খুলেছিলেন।

[৩] শনিবার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট থেকে প্লাজমা নেয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। ফরিদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় প্রতারণা মামলা করা হয়েছে।

[৪] কোভিড আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ হতে করোনা জয়ীর অ্যান্টিবডি সমৃদ্ধ রক্তরস বা প্লাজমার প্রয়োজন হয়। আর এই প্লাজমা স্বেচ্ছায় সংগ্রহ করে দেয়া ও অতিরিক্ত টাকা হাতানোর জন্য নামে ফরিদ অনলাইনে শুরু করেছিলেন প্লাজমা বাণিজ্য।

[৫] দেশের হাসপাতালগুলোর মধ্যে প্লাজমা সংগ্রহে সবচেয়ে কম খরচ হয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। মাত্র ৩ হাজার টাকায় প্লাজমা পাওয়া যায়। ফরিদ সেখান থেকে প্লাজমা নিয়ে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রির সময় হাতেনাতে তাকে আটক করে পুলিশ। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগেও হাসপাতাল থেকে দুইবার প্লাজমা নিয়েছে ফরিদ।

[৬] পুলিশ জানায়, ফরিদ ধানমন্ডি এলাকায় থাকেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাহিদুর রহমান নামের একজনের বাবা স্কয়ার হাসপাতালে কোভিড আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন। জাহিদুর প্লাজমার সন্ধান করছিলেন। একটি অনলাইন পেজে বিজ্ঞাপণ দেখে সেখান থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করেন ফরিদের সঙ্গে। ফরিদ জানান, এক ব্যাগ প্লাজমার জন্য জাহিদুরকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে।

[৭] ভুক্তভোগী জাহিদুর জানান, ফরিদ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছেন, এই বিষয়ে তিনি গত ২ থেকে ৩ মাস ধরে কাজ করছেন। প্লাজমা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে রয়েছে। প্রসেসিং ফি বাবদ ১২ হাজার টাকার বেশি লাগবে। কিছু বাড়িয়ে দিতে বলা হয়। কারণ হিসেবে ফরিদ জানান, ক্রসম্যাচিংসহ আনুসঙ্গিক বিষয়ে আরও কিছু টাকা লাগতে পারে।

[৮] শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহকারী ডা. আশরাফ হক বলেন, মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে আকুতি মিনতি করে মানুষের জন্য প্লাজমা লাগার কথা বলেছেন। ফরিদের দেয়া হাসপাতালে যোগাযোগ করে জানা যায়, ফরিদের নিকটাত্মীয়ের জন্য নয়। ব্যবসার জন্য এটি চালু করেছেন। ফরিদের সঙ্গে কিছু কথা বলেই বোঝা গেছে, ফরিদ ব্যবসার জন্য প্লাজমা সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। বেশ কয়েকবার আমাকে অনুরোধ করলেও আমি সম্মত হইনি।

[৯] ডিএমপি রমনা জোনের সহকারী কমিশনার এস এ শামীম বলেন, কোভিড সংকটের শুরু থেকেই ফরিদ প্লাজমা নিয়ে ব্যবসা করছেন। ফেসবুকে ‘কোভিড-১৯ প্লাজমা হেল্পলাইন বিডি-বাঁচাও হেল্থ’ নামে ফরিদের একটি পেজ রয়ছে। এই পেজের মাধ্যমেই তিনি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের প্রয়োজনের কথা বলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্লাজমা সংগ্রহ করেন। সংগ্রহের পর ৩ হাজার টাকায় কেনা প্লাজমা বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করে দেন। ভুক্তভোগী জাহিদুরের কাছে এক ব্যাগ প্লাজমা ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

[১০] এর আগে দুই জনের জন্য প্লাজমা নেয়ার কথা প্রাথিমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ জানিয়ছেন উল্লেখ করে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগী জাহিদুরকে প্লাজমা দেয়ার কথা বলে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিচে নিয় যান ফরিদ। ফরিদ লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখতে জাহিদুরকে বলেন, আপনি উপরে উঠতে পারবেন না, নিচে থাকেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী বুঝতে পেরে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ফরিদকে আটক করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত