প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরকারি দপ্তরের কাজে গতি ও সেবা সহজিকরণের লক্ষ্যে হচ্ছে ‘ডিজিটাল গভর্ন্যান্স আইন’

আনিস তপন : [২] আইনের বিধান প্রতিপালনে ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকতা-কর্মচারীর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এমন বিধান রেখে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স আইন, ২০২০ এর খসড়া তৈরি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

[৩] তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং সেবা সহজিকরণের লক্ষ্যে অনুষাঙ্গিক অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে এই বিধান তৈরি করা হয়েছে বলে খসড়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাস্তবায়নের সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকবে। তবে প্রয়োজনে অন্য কোনো সরকারি দপ্তরকে এই আইনের কোনো বিষয় সমন্বয়ের দায়িত্ব দিতে পারবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

[৪] সকল সরকারি দপ্তরকে তার তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তায় সচেষ্ট থাকতে এবং তার গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে আইনে।

[৫] ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকারি দপ্তরকে সেবা প্রাপ্তিতে নাগরিকের যে কোনো অসন্তুষ্টি বা অভিযোগ প্রতিকারের লক্ষ্যে সমন্বিত অনলাইন অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা তৈরী এবং সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের পরিচিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে খসড়াতে।

[৬] সরকারি দপ্তরগুলোর আদায়যোগ্য অর্থ ও বেতন-ভাতা, পেনশন, অনুতোষিক, অনুদান, ক্ষতিপুরণ, বৃত্তিসহ এরূপ বিষয়গুলো পরিশোধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে এতে। তাছাড়া ডিজিটাল-প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রচলিত কর্মপদ্ধতিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে উপযুক্ত কার্যক্রম নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

[৭] প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইলেজশন সম্পর্কে বলা হয়েছে, সকল সরকারি দপ্তর স্বীয় দপ্তরের সহজ পরিচিতির জন্য কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইনে নাম রেজিস্ট্রেশন করবে। প্রত্যেক দপ্তরে তথ্য ও সেবা সম্বলিত একটি বাতায়ন থাকবে যা জাতীয় তথ্য বাতায়নে যুক্ত থাকবে এবং দপ্তরগুলো নিজ নিজ বাতায়নে তথ্য, উপাত্ত ও সেবা সন্নিবেশ ও হালনাগাদ করবে। সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর্মসম্পাদনের লক্ষ্যে সকল কর্মচারিকে ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট দিবে এবং সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ডিজিটাল নথি ব্যবস্থা তৈরি ও বাস্তবায়ন করবে। যাতে সরকারি কর্মচারিগণ কর্মস্থলের বাইরে (দেশে/বিদেশে) অবস্থানের সময়ে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করতে পারেন। অডিও-ভিজুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কনফারেন্স, সভা, শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করতে পারবে বলেও বিধান রাথা হয়েছে খসড়াতে। এজন্য সরকার তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ই-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।

[৮] কোনো কোনো পত্র বা দলিল ডিজিটাল স্বাক্ষর দ্বারা সম্পাদন করা যাবে উল্লেখ করে খসড়াতে বলা হয়েছে, দলিল, সাময়িক দলিল, সত্যায়িত অনুলিপিসহ অন্য কোনো কাগজ-পত্র উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলে, তাতে তথ্য-উপাত্তের প্রমাণ, সঠিকতা, অনস্বীকার্যতা, অভিগম্যতা বজায় থাকতে হবে, তথ্যটি বোধগম্য হতে হবে এবং তা বরাত হিসেবে পরবর্তীতে ব্যবহার যোগ্য হবে।

[৯] কোনো তথ্য-উপাত্ত হস্তাক্ষর বা মুদ্রাক্ষর অথবা কোনো উপায়ে লিখিত বা মুদ্রিত আকারে দাখিল করার শর্ত উল্লেখ থাকলেও তা ডিজিটাল উপায়ে দাখিল করা যাবে বলেও উল্লেখ রয়েছে খসড়াতে।

[১০] এছাড়াও ডিজিটাল উপায়ে সম্পাদন করা তথ্য-উপাত্ত, স্বীকৃত উপায়ে প্রস্তুত হলে, প্রেরিত বা প্রাপ্ত হলে বা সংরক্ষিত থাকলে, এমন তথ্য-উপাত্ত অগ্রাহ্য, অযথার্থ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অযোগ্য বলে বিবেচিত করা যাবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত