প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনিস আলমগীর: ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর জম্মু- কাশ্মিরের মানুষের মানসিক বিচ্ছিন্নতা বেড়েছে, নাকি কেন্দ্রের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে?

আনিস আলমগীর: গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ কাশ্মির শাটডাউনে ৫ লাখ লোক কর্মসংস্থান হারিয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে পর্যটনখাতে, ৭৪ হাজারের বেশি লোক বেকার হয়ে পড়েছে। নয় হাজার কোটি রুপির ক্ষতি শুধু ট্যুরিজম সেক্টরে। ট্যুরিজমের পরিসংখ্যান যদি দেখা হয় তাহলে বলা যায় কাশ্মিরে পর্যটনখাতে আয় কমেছে ৮৬ শতাংশ। ফোরাম অব হিউম্যান রাইটস গ্রুপ, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরাও সদস্য রয়েছেন, তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে কাশ্মিরের অর্থনীতি বা সামাজিক উন্নয়ন কোনোটারই ইনডেক্স বাড়েনি। উন্নয়নের যেটুকু সম্ভাবনা ছিলো যদি লোকজনের হাতে ইন্টারনেট থাকতো, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকতো, ট্যুরিজম যদি ঠিকমতো চলতো- তাহলেও কিছুটা আশা করা যেতো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আর্টিকেল ৩৭০ তুলে দেওয়ার পর জম্মু- কাশ্মিরের লোকজনের সোশ্যাল এবং ইকোনোমিক কন্ডিশন যা ছিলো তা থেকে কি বেড়েছে? জম্মু- কাশ্মিরের লোকেরা আগে যে নাগরিক অধিকার ভোগ করতো এখন সেটা কি বেড়েছে?

জম্মু-কাশ্মিরের লোকেরা নিজেদের আলাদা ভাবতো, ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর তাদের মানসিক বিচ্ছিন্নতা আরও বেড়েছে নাকি তারা কেন্দ্রের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে? মানে নিজেদের কাশ্মিরি মনে করে নাকি এখন ভারতীয় মনে করে? সব কটি প্রশ্নের জবাব হচ্ছে ‘না’। তাহলে মোদির তালি বাজানো সিদ্ধান্তের পর কাশ্মিরের বা পুরো দেশের কী লাভ হলো। মাঝখানে উন্নয়ন আর জাতীয়তাবাদের প্রোপাগান্ডায় জনগণ ভুলে গেছে কাশ্মিরের জনগণের মানবাধিকার, শিশুদের মানবাধিকার লংঘনের কথা। তাদের নিজ গৃহবন্দি করে রাখার কথা। হাজার হাজার মানুষকে বিনা কারণে জেলে দেওয়ার কথা। গত চার মাস ভারতীয়রা করোনার লকডাউন সহ্য করতে পারছে না, কাশ্মিরের জনগণ তাহলে কীভাবে এক বছর ধরে লকডাউন সহ্য করে আসছে। তাও আবার কয়েক মাস পুরোপুরি ইন্টারনেট ছাড়া এবং বর্তমানে অন্যান্য রাজ্যের মতো ইন্টারনেট সেবা বঞ্চিত হয়ে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত