প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরকারি অফিস পুরোপুরি খুলে দেয়াকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

ইয়াসিন আরাফাত : [২] কোভিড-১৯ এর এই পর্যায়ে বাংলাদেশে স্বাভাবিক নিয়মে সরকারি অফিস খুলে দেয়ার ঘোষণায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া সরকারের এই সিদ্ধান্তে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও উদ্বুদ্ধ হলে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

[৩] নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী বলেন, সচিবালয়ে সাধারণত উপ-সচিব থেকে তার উপরের পদ মর্যাদার কর্মকর্তাদের বসার জন্য আলাদা কক্ষ আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিনিয়র সহকারি সচিবরাও এই সুবিধা পান। বাকিরা একই রুমে বসেন বা ডেস্ক শেয়ার করেন। ফলে সবাই অফিসে গেলে কোনোভাবেই সামাজিক দূরত্ব রেখে কাজ করা সম্ভব হবে না। সেভাবে বসার জায়গা তৈরি করা হয়নি। আর যে পরিমাণ জায়গা আছে তাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসার ব্যবস্থা করা সম্ভবও নয়। ঢাকার বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং অধিদপ্তরেরও একই অবস্থা। আর ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সামাজিক দূরত্ব মেনে সবার পক্ষে এক সঙ্গে অফিস করা সম্ভব নয়।

[৪] একজন কর্মচারী বলেন, আমরা তো কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু এই ঘোষণায় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই পরিবেশে কাজ করে আমরা তো বাসায় ফিরবো। আমাদের পরিবারের সদস্যরাও ঝুঁকির মুখে পড়বেন। উপ-সচিব পদ মর্যাদার নীচের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের গাড়িও নেই। তাদের পাবলিক যানবাহনে করেই অফিসে যেতে হবে । এটাও নতুন আরেকটি ঝুঁকি তৈরি করবে। আর পুরোদমে অফিস খুলে গেলে বাইরে লোক সমাগমও বেড়ে যাবে।

[৫] সরকারি প্রতিষ্ঠানে এতদিন রোস্টার করে কাজ হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে যত জনের কাজ করা সম্ভব ততজনই রোস্টার অনুযায়ী অফিসে এসেছেন। বাকিরা বাসায় বসে অফিস করেছেন। পালাক্রমে তারা এভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু আগামী রোববার থেকে এই সুবিধা থাকছে না। সবাইকে ৯টা-৫টা অফিস করতে হবে।

[৬] জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের চিকিৎসক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, কর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি অফিস স্বাভাবিক নিয়মে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। বাংলাদেশে চলমান কোভিডের দ্বিতীয় পর্যায় চলছে। টেস্ট কমানো হলেও আক্রান্তের হার এখনো ২১ ভাগ। পরিস্থিতি ভালো না। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাট এবং ঈদ যাত্রার কারণে করোনা এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। আর এখন অফিস স্বাভাবিক নিয়মে খুলে দিলে করোনা আরো বিস্তৃত হবে।

[৭] তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশে অফিসে বসার ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আর সামাজিক দূরত্ব মেনে বসার মতো স্পেসও নেই। ফলে অফিস হয়ে উঠতে পারে করোনা সংক্রমণের হট স্পট।

[৮] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে গত ২৪ ঘন্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৯৯টি। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৮২৩টি। এখন শনাক্তের হার ২১.১০ ভাগ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গড়ে ১০-১২ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে এটা ছিল গড়ে ১৫ হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন তিন হাজার ৩৩৩ জন।

সুত্র : ডয়েচে ভেলে

সর্বাধিক পঠিত