প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজধানীতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আবাসন ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আবুল খায়ের (৫২) নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে একজনের ফোন কল পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর শুক্রবার সকালে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত ব্যবসায়ী সজীব বিল্ডার্স নামে একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

[৩] পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। এরই মধ্যে নিহতের ব্যবসায়িক অংশীদারসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এন ব্লকে নির্মানাধীন ৯ তলা ভবনের দোতালা থেকে তার লাশ পাওয়া গেছে। কার কল পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন এবং হত্যায় তার সম্পৃক্ততা আছে কি না এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মাথায় পিছনের দিক থেকে কিছু দিয়ে জোরালো আঘাত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হওয়া যাবে।

[৪] নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী রুপালী আক্তার জানান, পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকের ২১ নম্বর সড়কের ৬৯২ নম্বর ভবন জালাল গার্ডেনের অষ্টম তলায় থাকতেন আবুল খায়ের। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে। তিনি সাধারণত রাত ৮টার মধ্যেই বাসায় ফিরতেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। রাত ৮টার পর কল দিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর রাতভর রুপালী সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ নিলেও স্বামীর সন্ধান পাননি। রাতে ভাটারা থানা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। শেষে ভোরে স্বজনরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে গিয়ে এন ব্লকে নির্মাণাধীন একটি ভবনের দোতলায় তার হাত-পা বাঁধা লাশ দেখতে পান।

[৫] পুলিশ জানায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকের ওই ভবনটি সজীব বিল্ডার্সই নির্মাণ করছিল। আবুল খায়েরসহ নয়জন ভবনটির মালিক। ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই হওয়ার পর থেকে ভবনের কাজ বন্ধ ছিল।

[৬] নিহতের ছোট ভাই সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বাবলু জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন আবুল খায়ের। পরে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা মেডিকেল কলেজে পড়েন। ছেলে সজীবের নামেই তিনি বছর দশেক আগে গড়ে তোলেন নিজের আবাসন প্রতিষ্ঠান। এর আগে একসময় ঠিকাদারি করেছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের।

[৭] আব্দুল বারী বাবলু বলেন, আমার ভাইয়ের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তাই কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করল তা বুঝতে পারছি না। তবে আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে তিনি জমি কিনেছিলেন। ওই জমি নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি তার ভাইকে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেন।

[৮] ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, স্বজনরাই প্রথমে তার লাশ খুঁজে পান। তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত