প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৈয়দ তারেক : কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে তেলেসমাতির মাজেজাটা কেউ কি বলতে পারবেন?

সৈয়দ তারেক : এবারের ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এই তেলেসমাতির মাজেজাটা কেউ বলতে পারবেন? ইহজীবনে কোনোদিন দেখা তো দূরের কথা শুনিনিও যে, কোরবানির পশুর চামড়া নেওয়ার কেউ নেই। গতবার পর্যন্ত দেখেছি ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই মাদ্রাসা মসজিদ এতিমখানার পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের উদ্যোগ। মাইকিং, পোস্টার সাঁটানো বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে আসা কোরবানির চামড়া সংগ্রহের শনাতন পদ্ধতি। এবার বুঝলাম করোনার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ, কিন্তু যারা ব্যবসা করেন সেই ব্যপারীরা কোথায়? গরু জবাইয়ের পরপরই যারা ছোঁ মেরে চামড়া নিয়ে যেতো সেই সিন্ডিকেটই বা কোথায়? সমাজসেবক-স্বেচ্ছাসেবী বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের লোকজনকেও দেখা গেলো না। আমাদের বিল্ডিংয়ের ৬/৭ টা গরুর চামড়া দুদিন পড়ে থেকে গন্ধ ছুটলে শেষে ভাগাড়জাত করার নিমিত্তে সিটি কর্পোরেশনের সুইপার ডেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে কোনো ব্যাপারী ব্যবসায়ীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আশেপাশের মসজিদের হুজুরদের মাগনা সেধেও কেউ নিতে রাজি হননি! আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে ফোন করলে যে উত্তর দেওয়া হয়, তাতে বোঝা যায় তাদেরও গরজ কম।

অবাক কাণ্ড। ফেসবুকে দেখলাম কোথায় যেন এন্তার এন্তার চামড়া ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। আর এক জায়গায় বিক্রি হয়েছে খাসির চামড়া দুই টাকা গরু দেড়শ টাকা করে। এবার চামড়ার কদর এভাবে পড়ে যাওয়ার গুঢ় রহস্যটা বুঝতে পারলাম না। দেশ সিঙ্গাপুর হয়ে গেছে সেই কারণে, নাকি মানুষ এতোটাই স্বাবলম্বী যে চামড়ার ব্যবসায় আর আগ্রহ নেই। আচ্ছা ধরলাম ছোটখাট ফরিয়া ফাটকা দালাল, টাউট-বাটপার বা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে নিলো কিন্তু এই চামড়া তো আমাদের জাতীয় সম্পদ, সরকারের সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ, ট্যানারি মালিক রপ্তানিকারকেরা কেন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেন? তারা কি পারতেন না জরুরি ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্যে অথবা বিনা মূল্যেই চামড়া সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে। কোন আশায় ধরে বসে রইলেন? নাকি এখানে কোনো বখরা কমিশনের ব্যাপার নেই? কারোরই কি কোনো দায় নাই? ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত