প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেঘনার নদীর পানি আকস্মিক বৃদ্ধি, লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটে ফেরী চলাচল বন্ধ

জাহাঙ্গীর লিটন লক্ষ্মীপুর : [২] মেঘনা নদীর পানি আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে সদর উপজেলার চর রমনি মহন এলাকায় মজু চৌধুরী ঘাটে প্রবেশের প্রধান সড়ক দেবে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

[৩] লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পারে আটকা পড়েছে কয়েকশ’ মালবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী যানবাহন। নদী পার হতে না পেরে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

[৪] বিআইডব্লিউটিসি’র লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরী ঘাটের কর্মকর্তা আবুল হাসেম জানান, মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও রাস্তা দেবে যাওয়ার লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে ফেরিঘাট বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পানি নেমে গেছে এবং রাস্তা মেরামত করা হয়েছে কিন্তু ভোলায় সমস্যার কারনে ফেরি চলাচল এ রির্পোট করা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছ।ভোলা ফেরি ঘাট ঠিক হলেই ফেরি চলাচল শুরু হবে।

[৫] পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বুধবারের (৫ আগষ্ট) জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় এক মিটারের বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর জেলার কমলনগর ও রামগতি উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ৩৩ কি. মি বেড়ি বাঁধ না থাকায় খুব সহজেই জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

[৬] সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার সদর উপজেলা চর রমনী মোহন ইউনিয়নের বুড়ির ঘাট সংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধটি বিধ্বস্ত থাকায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে নিন্মাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার আউস এবং আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে যায়। মাছের খামারগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ বের হয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে ওই এলাকার লোকজন।

[৭] স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছোয়াল জানান, প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে তার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে। এত তাদের এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমিসহ মাছের ঘেরগুলো তলিয়ে যায়। ফলে একদিকে চরম ভোগান্তি এবং অন্যদিকে ব্যাপক লোকসানের মধ্যে পড়েছেন এলাকাবাসী।

[৮] তিনি আরো জানান, তার গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধটি গত ৫-৬ বছরের বেশি সময় ধরে বিধ্বস্ত হয়ে আছে। এটি মেরামত না করায় জোয়ারের পানি তার ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে।

[৯] কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, পানি বন্দিদেরকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া সবাইকে শুকনো খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

[১০] আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কমলনগরের নবীগঞ্জ বাজারে স্থানীয় লোকজনের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ায় ওই এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করতে দেখা গেছে।

[১১] এদিকে রায়পুর উপজেলার চর আবাবিলসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৩ হাজার পানের বরজ কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। পান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন চাষীরা।

[১২] রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী জানান, জোয়ারের কারণে বেশ কিছু কাঁচা, আধাপাকা ঘরবাড়ি ও সড়কের গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

[১৩] অন্যদিকে জেলার রামগতি উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর অবদুল্যাতে জোয়ারের পানি বসত ঘরে ঢুকে পড়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে জোয়ারের পানি নামার সময় ৬-৭ টি বসত ঘর নদীতে নিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

[১৪] লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, জেলার রামগতি উপজেলার রামগতি মাছঘাট থেকে কমলনগর উপজেলার কাদির পন্ডিতের হাট পর্যন্ত মেঘনার উপকূলে ৩৩ কিলো মিটার এলাকায় বেড়ি বাঁধ না থাকায় জোয়ারে পানি খুব সহজে ঢুকে পড়ে। ওই এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বাঁধটি নির্মাণ হলে জোয়ারের পানি থেকে উপকূলীয় এলাকাগুলো রক্ষা করা যাবে।

[১৫] সদর উপজেলার চর রমনী মোহনের বিধ্বস্ত বাঁধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক বছর আগে বাঁধটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু ব্লক দিয়ে সংস্কার না করায় বাঁধটি পুনরায় ভেঙে গেছে। নতুন করে বাঁধ মেরামতের প্রকল্প আসলে সেটি মেরামত করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত