প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লেবাননে বিস্ফোরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই যুবকের মৃত্যু, পরিবারে শোকের মাতম

তৌহিদুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : [২] লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেহেদী হাসান রনি (২৮) নামের এক যুবক মারা গেছেন। অপরজন লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মো. রাসেল (২২) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

[৩] প্রবাসী রনি সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রনির মৃত্যুর সংবাদ আসে তার পরিবারের কাছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাবা তাজুল ইসলাম। আর মা ইনরা বেগম ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

[৪] রনির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই-এক বোনের মধ্যে রনি ছিলেন বড়। গ্রামের একটি স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছ পরিবারের কথা ভেবে রনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সুদে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ লেবাননে পাড়ি জমান রনি। এর মধ্যে বাবা তাজুল ইসলামও বাহরাইন থেকে দেশে ফেরত আসেন। এর ফলে পরিবারের পুরো চাপ পড়ে রনির ওপর।

[৫] তবে পরিবারের জন্য হাসিমুখেই কাজ করে যাচ্ছিলেন রনি। লেবাননের বৈরুতে একটি বিপনী বিতানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন তিনি। একটু বেশি বেতনে কাজ করার জন্য অন্য কোনো দেশে যেতে চেয়েছিলেন রনি। বাড়ির সবাইকে বলেছিলেন অনুমতি দেয়ার জন্য। কিন্তু ঋণের টাকা শোধ না হওয়ায় বাড়ি থেকে অনুমতি মিলেনি। রনির বাবা তাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে রনির এক সহকর্মী ফোন করে জানান তিনি অসুস্থ্য, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে আবার ফোন করে জানান রনি মারা গেছেন।

[৬] অপরজন লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মো. রাসেল (২২) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জেলার কসবা উপজেলার কাইমপুর ইউনিয়নের জাজিসার গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার ছেলে।

[৭] এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই সাদেক মিয়া গুরুতর আহত হয়ে বৈরুতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

[৮] রাসেলের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাসেল সবার ছোট। প্রায় চার বছর আগে রাসেল লেবানন পাড়ি জমান। তার বড় ভাই সাদেকও লেবাননেই থাকেন। রাসেল বৈরুতের একটি তেলের পাম্পে চাকরি করতেন। পরিবারের ছোট ছেলেকে হারিয়ে বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা-মা বারবার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন। ছেলের মরদেহ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

[৯] কাইমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাসেলের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সম্পাদনা : হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত