প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে বিষাক্ত মদ পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮

ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে সরকারি হিসেবে রোববার বিষাক্ত মদ পান করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে। বেসরকারিভাবে মৃতের সংখ্যাটা আরো বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিকভাবে জানানো হয়েছে, এ দিন তর্ণ তারণ জেলায় নতুন করে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ কুলবন্ত সিং জানিয়েছেন, এর ফলে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫। এছাড়াও বিষাক্ত মদ পানে অমৃতসরে ১২ জন এবং গুরদাসপুরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যুমিছিলের পাশাপাশি প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে নিহতদের পরিবারের অসহযোগিতাও। ডিসিপি কুলবন্ত সিংয়ের দাবি, অনেক পরিবারই মৃত্যুর খবর পুলিশ-প্রশাসনকে দিচ্ছে না। অনেকে পরিবার আবার ময়নাতদন্তের জন্যেও এগিয়ে আসছে না। পুলিশ-প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখেই মৃতের শেষকৃত্য করছে। এরফলে মৃত্যুর আসল ছবিটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। শেষকৃত্যের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা নির্ধারিত করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তাই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি বলেই ধারণা পাঞ্জাব প্রশাসনের।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসশাসিত পাঞ্জাব প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে শুরু করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল আম আদমি পার্টি। এদিন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। ট্যুইটারে কেজরিওয়াল লেখেন, ‘পাঞ্জাবে বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। রাজ্য সরকারের উচিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। এর আগের কোনো বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শেষ করে উঠতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। তাই এই মামলাটি দ্রুত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।’

এর পাশাপাশি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে কেজরিওয়ালের দল আপ। পাটিয়ালা, পাঠানকোটসহ পাঞ্জাবের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আপ কর্মী-সমর্থকরা। আপ সাংসদ ভগবন্ত মান তর্ণ তারণ জেলায় মৃতদের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গোটা ঘটনার তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার রাত থেকে বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে। তর্ণ তারণ, অমৃতসর এবং গুরদাসপুর থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে আবগারি দফতরের সাতজন কর্মকর্তা ও ছয়জন পুলিশকর্মীকে। গোটা ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব প্রশাসন। মৃতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায়তারও ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র : এই সময়, নয়া দিগন্ত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত