প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে শেখ হাসিনার গুরুত্ব: মাহফুজুর রহমান

মাহফুজুর রহমান: ইমরান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার ১৫ মিনিটের টেলিফোনিক আলাপ দিল্লির পলিসি মেকারদের ভাবিয়ে তুলেছে। দিল্লির সাউথ ব্লকের পলিসি মেকারদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে এই নিয়ে। তাদের পলিসি মেকারদের মধ্যে বেশি আছে চরমপন্থী, কিছু মধ্যপন্থী আর স্বল্পসংখ্যক আছে উদারপন্থী। চরমপন্থীরা বেশি অস্থির, ইমরান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনিক আলাপ মেনেই নিতে পারছেন না, আর মধ্যপন্থীরা তাদের দোষারোপ করছেন যে, ভারত প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে পারছে না। বেশি চাপাচাপি করতে গিয়ে নেপাল দিল্লি থেকে বের হয়ে গেছে, শ্রীলঙ্কা গেছে, মালদ্বীপ গেছে, ভূটান যাবার পথে। ভরসা ছিল বাংলাদেশ তাও চাপাচাপিতে তারা অন্যদিকে তাকাচ্ছে। ইমরান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনিক আলাপের বিষয়টি এতো সহজেই কেন হলো, এটাও তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। যেখানে হিলারি ক্লিন্টনের রেড ফোনকেই শেখ হাসিনা অবজ্ঞা করতে পেরেছিলেন। ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলতে শেখ হাসিনা ইচ্ছুক না হলে তাকে দিয়ে কেউ ফোনে কথা বলাতে পারতেন না এটাও দিল্লির পলিসি মেকারদের চিন্তায় নাড়া দিয়েছে। তাহলে কি শেখ হাসিনার উপদেষ্টাদের মধ্যে এখন দিল্লিপন্থীদের চাইতে পাকিস্তানপন্থীরা দাপট নিয়ে আছেন? নাকি শেখ হাসিনা নিজেই এসব সেটিং করছেন? দিল্লির পলিসি মেকারদের বিশ্বাস শেখ হাসিনা পাকিস্তানপন্থী উপদেষ্টাদের প্রাধান্য বেশি দিচ্ছেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলাপ আলোচনা নিয়ে ঢাকা বিস্তারিত কিছু প্রকাশ না করলেও পাকিস্তান ও ভারতের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে, পলিসি মেকারদের মধ্যে এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে।

দুই দেশই যার যার মতো করে স্টেটমেন্ট দিচ্ছে। পাকিস্তান বলছে, ইমরান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার যে আলাপ হয়েছে তাতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি গুরুত্ব পেয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তাতে শেখ হাসিনা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ইমরান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, আর এতে শেখ হাসিনার সম্মতিও পেয়েছেন। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইমরান খানের সাফল্য প্রকাশ পেয়েছে ঠিক পিপলস পার্টির নেতা ভুট্টোর মতো। ভুট্টো যেমন চরম প্রতিকুলতার মধ্যেও শেখ মুজিবুর রহমানকে ওআইসি সম্মেলনে পাকিস্তান সফরে আনাতে পেরেছিলেন, শেখ মুজিবের সঙ্গে ভুট্টোর কোলাকুলিও হয়েছিল। আর ওদিকে দিল্লিও এই টেলিফোন আলাপ নিয়ে স্টেটমেন্ট দিয়ে নিজেদের মতো করে যে, তেমন কিছুই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়নি, শেখ হাসিনা কাশ্মীর সম্পর্কেও তেমন কিছু বলেননি, ঢাকা মনে করে কাশ্মীর সমস্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারপরেও তারা সন্দেহ করে যে, ভারত যখন বাংলাদেশকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিল ঢাকা তখন তা পাকিস্তান থেকে আমদানি করলো।
এতে দিল্লির পলিসি মেকার বিস্মিত।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও ৪ মাস ধরে পারছেন না। এসব বিষয় দিল্লির সাউথ ব্লককে ভাবিয়ে তুলেছে। দিল্লি আরও অবাক যে, গেলো টার্মের নির্বাচনের পরেই যেন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়ন প্রজেক্টগুলো নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, অন্য দিকে চীনের সঙ্গে আগ্রহের ব্যারোমিটার যেন সাইক্লোন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সিলেটের ওসমানি বিমানবন্দরে নতুন টারমিনালের কাজও চীনের একটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে, যদিও এসব করতে ভারত আগ্রহী ছিল। ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্যে সিলেট একটি খুব সেন্সেটিভ এরিয়া যেখানে চীনা কর্মীরা কাজ করবে? যাইহোক, খুব ঠুনকো কোনো কারণ নিয়ে ইমরান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার আলাপ হয়তো ছিলো না। এই টেলিফোন সংলাপের প্রেক্ষাপট তৈরি করাও হয়েছিল খুব গোপনে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার যে ভারতের The Hindu পত্রিকাটি ভারতের হাই কমিশনারের ৪ মাস অপেক্ষা করার বিষয় নিয়ে খুব বিকৃত করে নিউজ তৈরি করেছে। Prime Minister Sheikh Hasina did not meet Indias High Commissioner despite repeated requests for a meeting in the last four months। এটা কি ইংরেজি অনুবাদ হইল? শেখ হাসিনা কেন ভারতের হাই কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চাইবেন? নাকি ভারতের হাই কমিশনার শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে চাইবেন? তাদের কথাবার্তা যে উত্তেজক টাইপের তা দেখেই বুঝা যায়। এমন চাপাচাপি করার জন্যেই হয়তো বঙ্গবন্ধু দিল্লিকে উপেক্ষা করেই ভুট্টোর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত