প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজবাড়ীর কালুখালীতে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি, ত্রাণের জন্য হাহাকার

মো.ইউসুফ মিয়া: [২] রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলাতে গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে রতনদিয়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এসব মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে। ত্রাণের জন্য তারা হাহাকার করছে।

[৩]সরেজমিনে বন্যা কবলিত গ্রামগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বন্যার পানির তোড়ে অনেক বাড়ী-ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি গবাদীপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাট-চৌকির উপর চুলা বসিয়ে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। অনেকেই দিন পার করছেন শুকনা খাবার খেয়ে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব। পানি বৃদ্ধির ফলে পাট কাটা ও জাগ দেয়া পাটও ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকরা। গ্রামগুলো এমনভাবে প্লাবিত হয়েছে যে, নিরাপদ আশ্রয় নেয়ার জায়গাও নেই।

[৪] রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়ীয়া গ্রামের গৃহবধূ রূপজান বিবি বলেন, বন্যায় আমাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। চুলায় আগুন জ্বালানোর মতো জায়গা না থাকায় বেশীর ভাগ সময়ই শুকনা খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করতে আসেনি।

[৫]পাশের গ্রামের নান্দু ফকির নামে একজন কৃষক বলেন, আমার বাড়ী বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় আমি পরিবার নিয়ে পাশের এলাকায় এক বাড়ীতে তাবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছি।

[৬] কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান নবাব বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক এলাকা বন্যায় তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোন সরকারী কোন সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি। আগামী রবিবার উপজেলায় তালিকা পাঠাবো।

[৭] রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেছেন তিনি সরেজমিনে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিবেন।

[৮] উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ নুরুল আলম জানান, বন্যা দুর্গত এলাকায় এখনো কোন ত্রাণ দেয়া হয়নি। ত্রাণ হিসেবে চাল বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে শুকনা, তৈরী বা রান্না করা খাবারের কোন ব্যবস্থা নেই। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত