প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঈদ যাত্রায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচতে পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ

সুজন কৈরী : [২] পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষই নাড়ির টানে প্রিয় জনের সাথে ঈদ উদযাপনে বাড়ি ফিরবেন। আর বাড়ি ফিরতে অনেকেই পড়েন অযাচিত বিপদে। তার মধ্যে এখন অন্যতম এক আতংকের নাম অজ্ঞান পার্টি।

[৩] এ পার্টির সদস্যরা সাধারণত ঈদ বা জাতীয় কোন উৎসবকে কেন্দ্র করে তৎপর হয়ে ওঠে। অজ্ঞান পার্টির প্রধান টার্গেট সাধারণ যাত্রীরা। এ পার্টির সদস্যরা এতটাই ধূর্ত যে তাদের দেখে চেনার উপায় নেই। বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে এ চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। টার্গেটকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ভাব জমিয়ে যে কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট। যাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে সর্বস্ব লুটে নিয়ে সুবিধামত স্থানে সটকে পড়ে।

[৪] অনেক সময় অজ্ঞানকৃত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে তার নিকট আত্মীয়ের কাছে ফোন করে তাকে আটক রাখার কথা বলে বিকাশ বা অন্য কোন মাধ্যমে আরও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ চক্রের সঙ্গে মহিলা সদস্যও রয়েছে। অনেক সময় তারা স্বামী-স্ত্রী সেজে যানবাহনে ওঠে। এরপর টার্গেটকৃত এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ফেলে।

[৫] এ থেকে বাঁচতে পুলিশ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সেগুলো হলো :

১. ভ্রমন পথে অযাচিতভাবে অপরিচিত কেউ অহেতুক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাত্তা না দেয়া।

২. গাড়ীতে পাশের সিটের লোক সখ্যতা গড়ে তুলতে চাইলে তা থেকে বিরত থাকা এবং কিছু খেতে বললে ভুলেও সেই খাবার না খাওয়া।

৩. ফুটপাতে বা রাস্তার মোড়ে টং দোকান থেকে খাবার না খাওয়া।

৪. ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমান কারো কাছ থেকে আচার, আমড়া, শসা, পেয়ারা প্রভৃতি না খাওয়া।

৫. বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চে ভ্রমণের সময় লজেন্স বা চকলেট, আইসক্রিম, সিগারেট জাতীয় কোনো খাবার গ্রহণ না করা।

৬. আজকাল ডাবের ভিতরে আগে থেকেই সিরিঞ্জের মাধ্যমে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো থাকতে পারে। তাই তৃষ্ণা নিবারণের বিষয়ে সতর্ক থাকা।

৭. প্রয়োজনে যাত্রাপথে হালকা নাস্তার জন্য বাড়ি থেকে সংগৃহীত খাবার বা পানীয় সঙ্গে রাখা অথবা স্থায়ী দোকান থেকে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করা।

৮. সিএনজিতে চলার সময় যাত্রীরা ড্রাইভারের কাছ থেকে এবং ড্রাইভাররা যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা।

৯. যাত্রাপথে নগদ অর্থ বা যে কোনো মূল্যবান দ্রব্য নিরাপদ হেফাজতে রাখা।

১০. ভ্রমণের সময় একাকি ভ্রমন না করে পারলে পরিচিত কাউকে সাথে রাখার চেষ্টা করা।

১১. যাত্রাপথে কোনো ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক হলে নিকটস্থ পুলিশকে অথবা গাড়ির চালক, হেলপার বা কন্ট্রাক্টরকে অবহিত করা। যেকোন বিপদে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করে পুলিশের সহায়তা নেয়া।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত