প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫

সুজন কৈরী : [২] সিআইডির সাইবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার চারজন হলেন- চক্রের মূল হোতা মেডিকেল কলেজের জসিম উদ্দিন ভুইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু, সামিউল জাফর সিটু ও এস এম সানোয়ার হোসেন। তাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

[৩] গত ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে জসিমের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের দুই কোটি ৬৫ লাখ টাকার ৩৯টি চেক, ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয় পত্র, ১৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি গাড়ী ও দুটি বাড়িসহ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি। এছাড়া পারভেজের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ৮৪ লাখ টাকার চেক এবং জাকিরের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকার এফডিআর ও চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

[৪] বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইবার পুলিশ ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস। এ সময় সাইবার পুলিশের ডিআইজি মো. শাহআলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

[৫] সুমন কুমার দাস বলেন, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে গ্রেপ্তার ৪৭ জনের ৪৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা তদন্তকালে ২০১৮ সালে একটি চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। গত ১৯ জুলাই পুলিশ সানোয়ারকে গ্রেপ্তার করলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দেন। তার দেয়া তথ্যে চক্রের মূলহোতাসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৬] সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপাখানা থেকে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে ফাঁস করতো। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় এজাহার নামীয় ১৪ জনসহ ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি।

[৭] সুমন কুমার দাস বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস থেকেই মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বারবার ফাঁস হয়েছে। প্রেসের মেশিনম্যান সালাম এবং তার খালাতো ভাই জসিম মিলে দেশব্যাপী ৫০ জনের একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। এর মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

[৮] সিআইডি আরও জানায়, ইতোমধ্যে মাস্টারমাইন্ড জসিমসহ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এছাড়া অধিদফতরের ক্ষমতাবান কর্তাদের মদদে প্রেস থেকে বহু বছর ধরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করতেন মেশিনম্যান সালাম। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত