প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনিসুল হক: দিনগুলো সোনার খাঁচায় থাকে না

আনিসুল হক: ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে যাবো। আম্মা আমার থুৎনি ধরে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে দিয়েছিলেন। জোড়া পাপড় দশ পয়সা, সিঙ্গেল পাঁচ পয়সা, দৌড়ে যেতাম আব্বার কাছে, আব্বা, পয়সা দ্যান। আব্বা কখনো কখনো চারআনাও দিতেন, মালাই আইসক্রিম কিনে খেতাম। আমার চোখে কুটা পড়লে আমার বোন রুমালের কোনা দিয়ে চোখ থেকে কুটা বের করে দিতেন। তারপর রুমালে মুখের ভাপ দিয়ে আমার চোখে স্যাক দিতেন।

জ্বর হলে আম্মা মাথায় পানি ঢালতেন। বিছানার কানিতে মাথা এনে মাথার নিচে দিতেন অয়েল ক্লথ। পায়ে কাঁটা ফুটলে আম্মা বা আপা সুই দিয়ে কাঁটা বের করে দিতেন। বড়আম্মা শীতকালে জোর করে আমাদের নিয়ে যেতেন টিউবওয়েলের পাড়ে, গা ডলে দিতেন আর বলতেন, অরা কী কালো, ময়লা জমি জমি কালো হয়া গেইছে। আমার মেয়ের জন্ম হলো বর্ষার দিনে। আমার শাশুড়ি মেয়েকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটার থেকে যাচ্ছিলেন কেবিনের দিকে। খুশিতে আমি কী করব বুঝছিলাম না।
মেয়েকে সারারাত কাঁধে ফেলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতাম, আর হাঁটতাম, যখন গরমকালে ইলেক্ট্রিসিটি থাকত না। সেই মেয়েটা বড় হয়ে কই চলে গেলো। অন্য দেশে। ভাইবোনেরা সব একই পাড়ায় থাকি, কিন্তু তবুও কত দূরে। আব্বা-আম্মা বড় আম্মা রংপুর মুনশিপাড়া গোরস্তানে। দিনগুলো সোনার খাঁচায় থাকে না। ক্রমাগত একা হয়ে যাচ্ছি। একা। এই বিশাল পৃথিবীতে একটা পথহারা পিঁপড়ের মতো একা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত