প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সাভারে ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় অভিযোগ

ইমদাদুল হক : [২] সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকল্পে অনিয়ম, ভূয়া রেজুলেশন দাখিল, ইউপি সদস্যদের ক্ষমতা খর্ব করাসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের বরাবর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি মেম্বার। তাদের এই অভিযোগ আমলে নিয়ে কতৃপক্ষ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে তারা স্বেচ্ছায় অনাস্থায় যাবেন বলে এই প্রতিবেদকে জানান। তবে এবিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো: সাইফুল ইসলাম।

[৩] অভিযোগ সূত্রে থেকে জানা যায়, সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম একটি আবাসন প্রকল্প গড়তে গিয়ে হয়ে উঠেছেন আরো বেপরোয়া। চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম তাঁর স্বেচ্ছাচারিতায় অত্র ইউনিয়ন পরিষদকে ব্যক্তিগত দপ্তরে পরিণত করেছেন। বিগত চার বছর যাবৎ তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজ একাই সম্পাদন করে আসছেন। চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সকল ইউপি সদস্যদেরকে অবমাননা করে নিজেই ভূয়া রেজুলেশন করে বিভিন্ন প্রকল্প দাখিল করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এসব রেজুলেশনের জন্য বিগত চার বছর তিনি কোনো সদস্যদের সাথে সভা করেননি। সদস্যরা রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করলেও তিনি নিজেই গোপনে সভার রেজুলেশন তৈরি করে থাকেন। প্রতিমাসে একবার ও তিন মাস পর পর একবার ইউপি সদস্যদের নিয়ে সভা করার কথা থাকলেও আজ অবধি এই ইউনিয়নের কোন সদস্যকে নিয়ে সভা করা হয়নি। কিভাবে এই পরিষদে প্রকল্প আসছে এবং তা অনুমোদন হচ্ছে তা ইউপি সদস্যদের অজ্ঞাত। যে কারণে বিগত চার বছর সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক হিসাব নিকাশ নিয়ে কোন বাৎসরিক সভা না করে তিনি সকল খাত থেকে অর্জিত অর্থ নিজের ইচ্ছেমত খরচ করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্যরা।

[৪] বনগাঁও ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করে আরো বলেন, বিগত চার বছর যাবৎ সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন প্রকার সম্মানী ভাতা পাননি। প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের তত্ত্বাবধানে উন্নয়মূলক রাস্তা ঘাটের কাজ হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে তাঁর নিজস্ব বাহিনী দ্বারা এসব কাজ দায়সারাভাবে সমাপ্ত করে থাকেন। এমনও এলাকা আছে যেখানে রাস্তা না হলেও তিনি রাস্তা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। কাজ না হলেও তিনি বিভিন্ন খাতের অর্থ উত্তোলন করে আসছেন।

এছাড়াও ১% কাবিখা, টি, আর, এডিপি, এল, জি, এসপি প্রকল্পে ভূয়া রেজুলেশন দাখিল করে তিনি অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছেন। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ত্রাণ বিতরনে দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের পাওনা ত্রাণ আত্মসাৎ করেছেন।

[৫] মন্ত্রীর কাছে প্রেরিত লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরো জানাগেছে, সাইফুল ইসলাম নিজে সন্ত্রাসী লালন করে জমি দখল, সুবিচার না করে বিচারপ্রার্থীদের সাথে অবিচার করে আসছেন। বর্তমানে সাইফুল ইসলাম ও তাঁর ক্যাডার বাহিনীর শিকার বনগাঁও ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। চেয়ারম্যান সাইফুলের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করলে তাদের অপমান করে পরিষদ থেকে বের করে দেয়া হয়।

[৬] বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো: আলাউদ্দিন জানান, বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের আমলে কোন মেম্বারের প্রয়োজন নেই বলে প্রকাশ করেন তিনি। এসব কারণে ইউপি সদস্যরা প্রতিনিয়ত চরম অপমান, হুমকী ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। ব্যহত হচ্ছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

[৭] এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সাথে সরাসরি আলাপ হলে তিনি এবিষয়ে বলেন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত