প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিতেই সুনির্দিষ্টভাবে সবকিছু বলা আছে, জানালেন ভূমিমন্ত্রী

দীপক চৌধুরী : দেশ এগিয়ে যাওয়ার পথ আরো প্রশস্ত ও সুন্দর করার জন্য সরকার একের পর এক নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো জেলায় উপযুক্ত ও দক্ষ কর্মকর্তার অভাবে সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। কথায় আছে, মাছে ভাতে বাঙালি। আমরা মিঠাপানিতে উৎপন্ন মাছে তৃতীয় স্থানে এগিয়ে এসেছি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেই উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করার কৌশলকে বাঁধাগ্রস্ত করছে তৃণমূলে অবস্থানকারী দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও লুটপাটকারী সন্ত্রাসীচক্র। তারা তৃণমূলে ‘মৎস্য সমবায় সমিতি’ গঠন করে স্থানীয় প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে থাকে। সেই চক্রটি এখনো সক্রিয় এদেশের ভাটি অঞ্চলে। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ইত্যাদি জেলার কিছু অংশে। তাদের বিরুদ্ধে ঘর-পুড়িয়ে দেওয়া, ‘মাছেরখলায় মাছ লুটপাট, রাতের আঁধারে অতর্কিতে আগ্নেয়াস্ত্রযোগে হামলার কারণে আদালতে মামলা থাকার পরও নানান কৌশলে জলমহালগুলোতে ত্রাস চালিয়ে থাকে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাছ চাষের নামে এই সেক্টরের কয়েকটি অনিয়মে মারাত্মক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স তাঁর সরকারের নীতি। সুনামগঞ্জের হাওরগুলো মাছ উৎপাদনে বিখ্যাত। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদও সতর্ক থাকেন সবসময়। গোটা জেলা ও জেলার অবহেলিত অঞ্চলগুলো তার মুখস্থ। বজ্রপাত, নৌকাডুবি, বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান। প্রতিটি উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদে রয়েছে তার বিচরণ। এ কারণেই তার কর্মদক্ষতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ সাধারণ মানুষকে আশা জাগায়।

স্বয়ং সম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অথচ সেখানে একশেণির দুর্নীতিবাজ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে তা তো হতে পারে না।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সততা, দক্ষতা ও মেধা থাকার পরও তৃণমূলে কিছু চিহ্নিত মৎস্যজীবীর কারণে সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হচ্ছে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী রক্তমাংসে একজন নীতিবান ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের মানুষ। চট্টগ্রামের বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। পিতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। দলের দুঃসময়ে তার ভূমিকা সবসময়ই আলোচনায় থাকত। তিনি বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন। তাঁর মেধাবী ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ রাজনীতিতে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষকে ভালবেসে। মন্ত্রী আরো প্রশ্ন তুলেন, কারো বিরুদ্ধে বা কোনো সমিতির বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট মামলা-মোকদ্দমা, ঘর পুড়িয়ে দেওয়া, লুটপাটের ইতিহাস থাকে তারা জলমহাল পাবে কীভাবে? স্থানীয় উপজেলা-জেলা প্রশাসনকে এসব দেখতে হবে। ‘জাল যার, জল তার’-এই নীতিতে আমাদের জলমহাল ইজারা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি জলমহাল যেন সঠিক সময়ে ইজারা দেওয়া হয় এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী বললেন, ‘কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দেশের অগ্রগতি আর উন্নয়ন চাইলে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ও লুটতরাজকারীদের ঘৃণা করতে হবে।’

আমরা জানি, দুর্নীতিবাজ ও মামলাবাজ চক্রকে দূরে রেখে রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে সরকার জনস্বার্থে ‘সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯’ প্রণয়ন করেছে। এই নীতির আলোকে সংশ্লিষ্টদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জলমহাল ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে।

খুব মনোকষ্ট নিয়ে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট , অনিয়মে জড়িত, আমরা যাকেই পাচ্ছি এবং যেখানেই পাচ্ছি তাকে ধরছি। আর ধরছি বলেই, চোর ধরে যেন চোর হয়ে যাচ্ছি।’ ‘আমরা ধরি আবার আমাদেরকেই দোষারোপ করা হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। এর আগে তো দুর্নীতিটাই নীতি ছিল। অনিয়মটাই নিয়ম ছিল। সেভাবেই রাষ্ট্র চলেছে।’ হাঁ, এটাই সত্য। টানা ১১ বছর ক্ষমতায় থাকায় অনেক বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী ঠাঁই নিয়েছে আওয়ামী লীগে। ভাটিঅঞ্চলে ওরা নিজেদের ‘জেলে’ পরিচয় দিয়ে থাকে। অথচ ‘জেলে’ পরিচয়ধারী একটি শ্রেণি জঙ্গি, জামায়াত, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। ওদের কেউ কেউ দলে ঢুকে পড়েছে। বিশেষ মহলের ‘আশীর্বাদে’ দুর্নীতি এবং লুটপাট করেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় তারা। অর্থের বিনিময়ে তারা স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার প্রশ্রয় পাচ্ছে। অথচ জামায়াত-বিএনপির সক্রিয় ও নাশকতামূলক প্রতিটি কর্মকাণ্ডে ওরা যুক্ত। বড় কিংবা ছোট প্রতিটি অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তারা। সাধারণত বড়শহর বা বড় জায়গায় হলে মানুষের চোখে পড়ে দুর্নীতিবাজরা। তৃণমূলে চোখে পড়ে না। বরং বাস্তবে তৃণমূলে এটা সাংঘাতিক রকম বেড়েছে। সুবিধাবাদী একশ্রেণির আওয়ামী লীগ নেতার আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে অপকর্ম করেই চলছে তারা। সুতরাং শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে হবে তৃণমূল থেকেই।

আমরা জানি, মৎস্য উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বে যে চারটি দেশ মাছ চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। এ দেশের পরিবেশ মিঠা পানির মাছ চাষের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার মাছের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণে দেশের জলাশয়গুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছুদিন আগেও একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেছি। এখন দৃষ্টি পুষ্টির দিকে। বিল, ঝিল, হাওর, বাঁওড়, নদীনালায় পরিকল্পিতভাবে মাছ উৎপাদন বাড়াতে হবে।

লেখক : উপসম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও কথাসাহিত্যিক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত