প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শওগাত আলী সাগর: ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ কেবল দুর্নীতিরই বিস্তার ঘটাবে

শওগাত আলী সাগর: ‘বিদেশগামী বাংলাদেশিদের ‘করোনা নেগেটিভ’ সনদ বাধ্যতামূলক’ করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তটি একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ। প্রথমত সনদ বা সার্টিফিকেট বিষয়টিই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির ‘ডোর ওপেনার’। এ ধরনের সার্টিফিকেট বিতরণের উদ্যোগ লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে বলে ধারণা করা যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে এই সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। তার মানে হচ্ছে ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেটটি দেবে বাংলাদেশ সরকার। এখন এর বিপদটি নিয়ে আলোচনা করি। ধরুন, কেউ করোনা পরীক্ষার জন্য সোমবার নমুনা জমা দিলো। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই টেস্টের ফলাফল পেতে তাকে ৫ থেকে ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ধরলাম, তিনি ৫ দিনের মাথায় ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ পেয়ে গেলেন। তার মানে হচ্ছে তিনি বিদেশে যাওয়ার জন্য ‘সরকারিভাবে অনুমোদন প্রাপ্ত’ হলেন।

সোমবার নমুনা জমা দিয়ে ফেরার পথে কিংবা পরে যেকোনো সময় তিনি কোনো না কোনোভাবে যদি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন এবং তার দেহে ভাইরাস প্রবেশ করে, তা হলে ইনকিউবিশনের নিয়ম অনুসারে ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তার শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দেবে। আবার সংক্রমিত হবার পরও অনেকের দেহে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যদিও তার দেহে ভাইরাস ঢুকে গেছে। পাঁচ দিন পর তিনি যখন ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ হাতে পেলেন, ততোক্ষণে তার দেহে ভাইরাস বাসা বেঁধে ফেলেছে, সেটি কিন্তু কেউ জানলো না, যার দেহে ভাইরাসটি ঢুকে পড়লো তিনি তো ননইÑ এমনকি টেস্টওয়ালারাও না। ।
এই সার্টিফিকেট নিয়ে তিনি যখন অন্যদেশে নামবেন, সেখানে যদি তার আবার টেস্ট হয়- তাহলে সেই টেস্ট ’পজেটিভ’ হবে। তাহলে তিনি যে ‘বৈধভাবে সরকার প্রদত্ত নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ নিয়ে বিদেশে গেলেন- সেই সার্টিফিকেটের কার্যকারিতা কী? তখন কি বিদেশের টেস্ট ভুয়া বলে পাড় প্ওায়া যাবে? ইনকিউবিশনের টাইমটাকে যেহেতু ১৪ দিন পর্যন্ত ধরা হয়, বিদেশে যাওয়ার পরও তার মধে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার নাও দিতে পারে। কিন্তু ততোক্ষণে তিনি আরও মানুষকে সংক্রমিত করে ফেলবেন। পৃথিবীর আর কোনো দেশে ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ দেয়া হয় কিনা- নিশ্চিতভাবে তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্তত কানাডায় নেই। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এবং করোনাভাইরাস বিস্তারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ কেবল দুর্নীতিরই বিস্তার ঘটাবে, আর কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত